বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘এআরটি’ চুক্তি জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) চুক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে গাজীপুর–৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন। স্পিকার (মেজর অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

১৭ জুন ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘এআরটি’ চুক্তি জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন বাণিজ্য চুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির একটি অন্যতম বড় সুবিধা হলো-মার্কিন তুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। এই চুক্তিটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতের নিরাপত্তায় বড় অবদান রাখবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’কে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বাজার সম্প্রসারণের নানামুখী উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারগুলোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারসমূহেও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।

শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রেফারেনসিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ), ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) এবং কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সম্পাদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সিইপিএ বিষয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের কার্যক্রমও বেশ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে জিসিসি, মারকুসুর এবং অন্যান্য আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব‍্যাহত রয়েছে।

সবশেষে সরকারের কূটনৈতিক সফলতার সুফল হিসেবে কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতের নতুন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের আম রপ্তানি করার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।