শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

আজ থেকে শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা ‘নীরব জোন’: আইন অমান্য করলেই ব্যবস্থা


আজ থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং এখানে আইন অমান্য করে শব্দ দূষণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গুলশানে আয়োজিত এক যৌথ শব্দ সচেতনতামূলক সমাবেশে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এই ঘোষণা দেন।
আজ থেকে শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা ‘নীরব জোন’: আইন অমান্য করলেই ব্যবস্থা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাকে শব্দ ও বায়ু দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। আজ থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নীরব এলাকা’ (Silent Zone) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) গুলশান-২ গোলচত্বরে আয়োজিত এক শব্দ সচেতনতামূলক সমাবেশ ও শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এ তথ্য জানান।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যৌথভাবে এই সচেতনতামূলক সমাবেশ ও শোভাযাত্রার আয়োজন করে।

সমাবেশে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে আজ থেকেই নীরব এলাকা হিসেবে কার্যকর করা হলো। এই এলাকায় এখন থেকে কোনো ধরনের শব্দ দূষণ বরদাশত করা হবে না। কেউ যদি এই নীরব এলাকার আইন অমান্য করে বা অযাচিত হর্ন বাজায়, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

প্রশাসক আরও জানান, বিমানবন্দরের পাশাপাশি গুলশান, বনানী, নিকেতন ও বারিধারা এলাকাকেও নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সোসাইটিগুলোর সহযোগিতায় এই আবাসিক এলাকাগুলোকে সম্পূর্ণ শব্দ ও বায়ু দূষণমুক্ত পরিবেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংস্থা এবং নাগরিকদের আন্তরিক সহযোগিতা থাকলে রাজধানী থেকে শব্দ ও বায়ু দূষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক একটি যুগান্তকারী তথ্য দেন। তিনি জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে রাজধানীর ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই ডিজিটাল কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।

সমাবেশে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন: শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করছে। নাগরিকদের সচেতন করতে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ডিভাইডারে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। 

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, 'শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২৫' এর আওতায় ট্রাফিক পুলিশকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার পর থেকে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। এর সুফল নগরবাসী খুব শীঘ্রই পেতে শুরু করবেন।

অনুষ্ঠানে গুলশান, নিকেতন, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।