শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

ইফতারে ঠান্ডা-তাজা স্বাদ: পুষ্টিকর কয়েক ধরনের শেকের সহজ রেসিপি


রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে চাই পুষ্টিকর ও শরীরচাঙা করা খাবার। ফল, দুধ ও খেজুরের মিশেলে তৈরি বিভিন্ন ধরনের শেক হতে পারে স্বাস্থ্যসম্মত ও তৃপ্তিদায়ক একটি বিকল্প। সহজ উপকরণে ঘরেই তৈরি করা যায় এমন কয়েকটি জনপ্রিয় শেকের রেসিপি তুলে ধরা হলো

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ 

ইফতারে ঠান্ডা-তাজা স্বাদ: পুষ্টিকর কয়েক ধরনের শেকের সহজ রেসিপি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

তপ্ত রোদে সারাদিন রোজা রাখার পর এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় প্রশান্তি এনে দেয় শরীরে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে পানিশূন্যতা ও ক্লান্তি তৈরি হয়, তা দূর করতে ইফতারে পুষ্টিকর শেক বা স্মুদি হতে পারে সেরা সমাধান। বাজারে কেনা কৃত্রিম পানীয়র চেয়ে ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক উপাদানের শেক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী।

আজকের আয়োজনে থাকছে ইফতারে ঝটপট তৈরি করা যায় এমন ৫টি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর শেক রেসিপি।

১. এনার্জি বুস্টার খেজুর-দুধের শেক (Date & Milk Shake)

খেজুর শক্তির দারুণ উৎস। ইফতারে তাৎক্ষণিক শক্তি পেতে এই শেক অতুলনীয়।

উপকরণ: ৫-৬টি নরম খেজুর (বীজ ছাড়া), এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ, সামান্য মধু এবং বরফ কুচি।

প্রস্তুত প্রণালী: ব্লেন্ডারে সব উপকরণ দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। ঘন হয়ে এলে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন। চাইলে উপরে কিছু বাদাম কুচি ছিটিয়ে দিতে পারেন।

২. রিফ্রেশিং ম্যাঙ্গো-বানানা শেক (Mango Banana Shake)

আম এবং কলার মিশ্রণ শরীরে কার্বোহাইড্রেট ও ভিটামিনের জোগান দেয়।

উপকরণ: ১টি পাকা কলা, আধা কাপ আমের পাল্প (বা ফ্রোজেন আম), এক কাপ দুধ ও স্বাদমতো চিনি বা মধু।

প্রস্তুত প্রণালী: কলা ও আম ছোট টুকরো করে কেটে দুধসহ ব্লেন্ডারে দিন। মসৃণ মিশ্রণ তৈরি হলে বরফ দিয়ে পরিবেশন করুন। এটি বেশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

৩. কুলিং দই-পুদিনা শেক (Yogurt Mint Shake)

পেট ঠান্ডা রাখতে এবং হজমে সহায়তা করতে এই পানীয়টির জুড়ি নেই।

উপকরণ: এক কাপ টক দই, এক মুঠো পুদিনা পাতা, সামান্য বিট লবণ, জিরার গুঁড়ো ও পানি।

প্রস্তুত প্রণালী: পুদিনা পাতা ও দইয়ের সঙ্গে সব মশলা মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। সামান্য পানি দিয়ে পাতলা করে নিন। এটি ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।

৪. ওটস ও বাদামের প্রোটিন শেক (Oats & Nut Shake)

যারা স্বাস্থ্য সচেতন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ পানীয়।

উপকরণ: ২ চামচ ওটস (হালকা ভাজা), ১০-১২টি কাঠবাদাম বা কাজু বাদাম, এক গ্লাস দুধ ও সামান্য গুড়।

প্রস্তুত প্রণালী: ওটস ও বাদাম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এটি শরীরের আমিষের চাহিদা পূরণ করবে।

৫. ম্যাজিক স্ট্রবেরি বা তরমুজ শেক (Strawberry/Watermelon Shake)

সিজনাল ফল দিয়ে তৈরি এই শেক দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি সুস্বাদু।

উপকরণ: এক কাপ তরমুজের টুকরো (বীজ ছাড়া) অথবা স্ট্রবেরি, আধা কাপ দুধ এবং সামান্য ভ্যানিলা এসেন্স (ঐচ্ছিক)।

প্রস্তুত প্রণালী: ফল ও দুধ একসাথে ব্লেন্ড করে নিন। তরমুজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিনির প্রয়োজন সাধারণত হয় না। ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করুন।

অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করাই ভালো। ডায়াবেটিস রোগীরা মধু বা খেজুরের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করবেন। তাজা ফল ব্যবহার করলে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বেশি থাকে। রমজানে ইফতারের টেবিলে ভাজাপোড়া কমিয়ে এসব পুষ্টিকর শেক রাখতে পারলে শরীর থাকবে সতেজ, সুস্থ ও কর্মক্ষম।