চুয়াডাঙ্গায় অভিযানে আটক বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন
১০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
শীতকাল এলেই ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা যেন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কনকনে ঠাণ্ডা, কুয়াশা আর উষ্ণ লেপের আরাম মানুষকে বিছানায় আটকে রাখতে চায়। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে নিয়মিত সকালে ওঠার অভ্যাস শরীর ও মন- দুটোর জন্যই অত্যন্ত উপকারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের সকালের বাতাস তুলনামূলকভাবে দূষণমুক্ত ও অক্সিজেনসমৃদ্ধ থাকে। এ সময় খোলা বাতাসে কিছুক্ষণ হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে ফুসফুস ভালোভাবে কাজ করে এবং শরীরের রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। এতে সর্দি-কাশি ও মৌসুমি রোগের ঝুঁকি কমে।
শীতকালে সকালে ওঠার আরেকটি বড় উপকারিতা হলো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি। ভোরের হালকা রোদ শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরিতে সহায়তা করে, যা হাড় মজবুত রাখার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত সকালে ওঠা মানুষের শরীরে অলসতা কমে এবং দিনভর কাজ করার শক্তি বাড়ে।
মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও সকালে ওঠার ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। সকালে সময় নিয়ে প্রার্থনা, ধ্যান বা বই পড়ার অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দিনের কাজ গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, ফলে কর্মজীবনে মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ে।
পুষ্টিবিদদের মতে, সকালে ওঠার ফলে নিয়ম মেনে সকালের নাশতা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। শীতকালে পুষ্টিকর খাবার শরীরকে উষ্ণ রাখে এবং শক্তি জোগায়। যারা দেরিতে ওঠেন, তারা প্রায়ই নাশতা বাদ দেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
চিকিৎসকরা বলছেন, শীতকালে সকালে ওঠার অভ্যাস করতে হলে রাতের ঘুম সময়মতো নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম ও উষ্ণ পোশাক ব্যবহার করে ধীরে ধীরে ভোরে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুললে শীতের এই চ্যালেঞ্জ সহজেই জয় করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে শীতকালে সকালে ওঠা শুধু একটি অভ্যাস নয়, বরং সুস্থ জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত এই অভ্যাস ধরে রাখতে পারলে শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি ও কর্মক্ষমতা- সব ক্ষেত্রেই এর সুফল পাওয়া যায়।