বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে সন্ধ্যা নদীর ভাসমান ‘মানতা’ জেলেরা


হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে বসবাসরত ভাসমান জেলে সম্প্রদায় ‘মানতা’। তীব্র ঠান্ডা ও বরফশীতল নদীর হাওয়ায় ছোট নৌকায় বসবাস করা এসব মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন, ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকা এখন গুরুতর সংকটে পড়েছে।

৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ণ 

প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে সন্ধ্যা নদীর ভাসমান ‘মানতা’ জেলেরা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

হাড়কাঁপানো শীতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে জনজীবন। তবে এই তীব্র ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে বসবাসকারী ভাসমান জেলে সম্প্রদায়—যাদের স্থানীয়ভাবে ‘মানতা’ নামে পরিচিত। উত্তর-দক্ষিণা হাওয়ার সঙ্গে নদীর বরফশীতল বাতাসে ছোট ছোট নৌকায় রাত কাটানো এসব মানুষের জীবন এখন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
মানতা সম্প্রদায়ের মানুষের জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং মৃত্যুও ঘটে নৌকাতেই। ডাঙায় তাদের কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই। রোদ-বৃষ্টি কিংবা কনকনে শীত—প্রকৃতির প্রতিটি প্রতিকূলতার সঙ্গেই আজন্ম লড়াই করে চলেছেন তারা। বর্তমানে বানারীপাড়ায় তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। নদীতীরবর্তী এলাকায় বাতাসের গতিও বেশি থাকায় নৌকায় বসবাসকারী মানতা জেলে পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তীব্র শীতের কারণে গত কয়েকদিন ধরে অনেক জেলেই মাছ শিকারে নদীতে নামতে পারছেন না। রাণী, রহিম ও কুলসুমসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, নদী থেকে আসা হিমেল বাতাস শরীরে বরফের মতো বিদ্ধ হয়। হাড়কাঁপানো এই ঠান্ডায় নৌকার ভেতরে পাতলা কাপড়ে রাত কাটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
মানতা সম্প্রদায়ের সদস্যরা আরও জানান, প্রতিবছর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সরকারের পক্ষ থেকে কম্বল ও শীতবস্ত্র পেলেও এবার এখনো কেউ তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। পেটের দায়ে মাছ ধরতে না পারা এবং প্রচণ্ড শীতে জলবন্দি হয়ে থাকা এসব অসহায় মানুষ এখন মানবিক সহায়তার আশায় দিন গুনছেন।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা না দিলে মানতা সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে।