শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বাড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি


পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুম কম হলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, স্মৃতিভ্রংশসহ মানসিক অবসাদ ও উদ্বেগ বাড়ার সম্ভাবনা বেশি। ঘুম কমলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং কর্মক্ষমতাও কমে যায়। চিকিৎসকেরা নিয়মিত ঘুমের নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

১৭ নভেম্বর ২০২৫, ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ 

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বাড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আধুনিক জীবনযাপনে কর্মব্যস্ততা, মানসিক চাপ ও ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার বাড়িয়ে দিচ্ছে মানুষের ঘুমের সংকট। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর কম ঘুম হলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, এমনকি স্মৃতিভ্রংশ ও মানসিক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুম কম হলে হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হতে পারে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার ওপরে উঠে যেতে পারে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ঘুম না হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়, ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে বড় ধরনের সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ঘুমের ঘাটতি মনোযোগ কমায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল করে এবং কর্মক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ঘুম কম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ডিপ্রেশন, উদ্বেগ ও মানসিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ঘুমের অভাব বৃদ্ধি, শেখার ক্ষমতা ও আচরণগত পরিবর্তনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়েছেন—ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা, ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টিভি স্ক্রিন এড়িয়ে চলা এবং শান্ত-অন্ধকার পরিবেশ তৈরি করার মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য রক্ষা করা সম্ভব। ঘুমকে অবহেলা করলে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।