সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

রান্নাঘরের পেঁয়াজে লুকিয়ে আছে কোন নীরব বিপদ? অবহেলা করলেই বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি


বাঙালির রান্নাঘরের অপরিহার্য উপাদান পেঁয়াজে প্রায়শই কালো বা কালচে ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। অনেকেই একে অত্যন্ত বিপজ্জনক 'ব্ল্যাক ফাঙ্গাস' মনে করে আতঙ্কিত হন। মূলত এটি মাটির নিচে থাকা এক ধরণের প্রাকৃতিক ছত্রাক, যার নাম অ্যাসপারগিলাস নাইজার (Aspergillus niger)। সাধারণ মানুষের জন্য এটি মারাত্মক বা প্রাণঘাতী না হলেও, অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ফাঙ্গাসজনিত ক্ষতি এড়াতে পেঁয়াজ ব্যবহারের সঠিক নিয়ম এবং এর ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।

১৮ মে ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ 

রান্নাঘরের পেঁয়াজে লুকিয়ে আছে কোন নীরব বিপদ? অবহেলা করলেই বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাঙালির রান্নাঘরে পেঁয়াজ ছাড়া একদিনও কল্পনা করা কঠিন। ঝালমুড়ির সালাদ থেকে শুরু করে মাংসের রেজালা- সবখানেই পেঁয়াজের রাজত্ব। তবে দৈনন্দিন জীবনের অতি প্রয়োজনীয় এই উপাদানটিই কখনো কখনো রান্নার সময় গৃহিণীদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানোর পর যখন ভেতরের স্তরে কালো বা কালচে গুঁড়োর মতো দাগ দেখা যায়, তখন অনেকেই একে মারাত্মক 'ব্ল্যাক ফাঙ্গাস' ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

পেঁয়াজের কালো দাগ আসলে কী?

কৃষি ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, পেঁয়াজের গায়ের এই কালো গুঁড়ো বা দাগ মূলত এক ধরণের সাধারণ ছত্রাক বা ফাঙ্গাস, যার বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাসপারগিলাস নাইজার (Aspergillus niger)। যেহেতু পেঁয়াজ মাটির নিচে বড় হয়, তাই মাটিতে প্রাকৃতিকভাবেই থাকা এই ছত্রাকটি সহজেই পেঁয়াজকে আক্রমণ করে। সাধারণত আর্দ্র আবহাওয়ায় বা পেঁয়াজ ভেজা অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ করলে এই ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি দ্রুত হয়। হাত দিয়ে ঘষা দিলে এই কালো দাগগুলো সহজেই গুঁড়ো হয়ে উঠে আসে।

কালো দাগযুক্ত পেঁয়াজ কেন ক্ষতিকর?

যদিও এই ছত্রাকটি মহামারি আমলের অতি বিপজ্জনক 'মিউকরমাইকোসিস' (যা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নামে পরিচিত ছিল) নয়, তবুও এটি শরীরে প্রবেশ করলে কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে:

হজমের সমস্যা: এই ফাঙ্গাসযুক্ত পেঁয়াজ ভালোভাবে না ধুয়ে বা রান্না না করে খেলে পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া বা ফুড পয়জনিং হতে পারে।

অ্যালার্জি ও হাঁপানির ঝুঁকি: যাদের আগে থেকেই অ্যালার্জি, অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, এই ছত্রাকের স্পোর (রেণু) শ্বাসের মাধ্যমে তাদের শরীরে প্রবেশ করলে কাশির তীব্রতা বাড়তে পারে এবং সাইনাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম যাদের: যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল, তাদের জন্য যেকোনো ধরণের ফাঙ্গাল ইনফেকশনই বাড়তি ঝামেলার কারণ হতে পারে।

পেঁয়াজে কালো দাগ থাকলে আপনার করণীয়

রান্নাঘরে সুস্থতা বজায় রাখতে কালো দাগযুক্ত পেঁয়াজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ রয়েছে:

১. আক্রান্ত স্তর ফেলে দিন: পেঁয়াজের উপরের খোসায় বা ঠিক তার নিচের স্তরে কালো দাগ থাকলে, খোসা ছাড়ানোর পর আরও এক বা দুটি স্তর ভালো করে কেটে ফেলে দিন। ভেতরের অংশ যদি একদম ফ্রেশ এবং শক্ত থাকে, তবে তা ব্যবহার করা যাবে।

 ২. ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া: কালো দাগ হাত দিয়ে পরিষ্কার করার পর পেঁয়াজটি পরিষ্কার ও চলমান পানিতে খুব ভালো করে ধুয়ে নিন। কাটার আগে এবং পরে ধুয়ে নিলে ছত্রাকের জীবাণু দূর হয়ে যায়। 

৩. আক্রান্ত অংশ বেশি হলে বর্জন করুন: যদি দেখা যায় কালো দাগ পেঁয়াজের একদম কেন্দ্র বা ভেতর পর্যন্ত চলে গেছে এবং পেঁয়াজটি নরম বা পচে গেছে, তবে সেটি না খেয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। 

৪. ফ্রিজে সংরক্ষণে সতর্কতা: অনেকেই পেঁয়াজ কেটে ফ্রিজে রেখে দেন। কিন্তু আর্দ্রতার কারণে ফ্রিজের ভেতরেও এই ফাঙ্গাস ছড়াতে পারে। তাই প্লাস্টিক ব্যাগে বা বদ্ধ পাত্রে দীর্ঘদিনের জন্য পেঁয়াজ ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। 

৫. শুকনো ও বাতাসযুক্ত স্থানে রাখুন: পেঁয়াজ সবসময় ঘরের এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এবং জায়গাটি শুকনো। স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রাখলে এই ফাঙ্গাসের আক্রমণ দ্বিগুণ বেড়ে যায়।

পেঁয়াজের কালো দাগ মানেই প্রাণঘাতী কোনো রোগ নয়, তবে এটি অবশ্যই অসচেতনতার কারণে পেটের পীড়া বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। তাই রান্নার আগে পেঁয়াজ ভালো করে পরীক্ষা করা, ধুয়ে নেওয়া এবং দাগযুক্ত অংশ পরিহার করার অভ্যাসই আমাদের সুস্থ রাখতে পারে।