রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

তরমুজ খাচ্ছেন প্রতিদিন? সতর্ক না হলে হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি


গ্রীষ্মে শরীর ঠান্ডা রাখতে তরমুজ জনপ্রিয় ফল হলেও অসতর্কতায় এটি হয়ে উঠতে পারে খাদ্যবিষক্রিয়ার কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাটা বা দূষিত তরমুজ থেকে ডায়রিয়া, বমি এমনকি কিডনি ও লিভারের জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
তরমুজ খাচ্ছেন প্রতিদিন? সতর্ক না হলে হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

গ্রীষ্মের সময় তৃষ্ণা মেটাতে ও শরীর ঠান্ডা রাখতে তরমুজ অন্যতম জনপ্রিয় ফল। প্রায় ৯৩ শতাংশ পানি সমৃদ্ধ এই ফলে রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। তবে সব উপকারিতার মাঝেও সতর্কতা জরুরি, কারণ কিছু ক্ষেত্রে তরমুজ খাওয়াই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এই সময়-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত নিরাপদ হলেও নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে তরমুজ ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

কখন তরমুজ বিপজ্জনক হয়ে ওঠে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ মাটিতে জন্মায় বলে এর খোসায় সহজেই Salmonella বা Escherichia coli (ই-কোলাই)-এর মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। কাটার আগে ভালোভাবে না ধুলে ছুরির মাধ্যমে এই জীবাণু ফলের ভেতরে প্রবেশ করে খাদ্য বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

এছাড়া গরমের দিনে কেটে দীর্ঘক্ষণ রাখা তরমুজে দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার হয়। এমন ফল খেলে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া বা বমির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো কেমিক্যাল বা কৃত্রিম রং ব্যবহার। অনেক সময় তরমুজকে বেশি লাল ও আকর্ষণীয় দেখাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

দূষিত তরমুজ খেলে সাধারণত যে উপসর্গগুলো দেখা যায়-

  • ডায়রিয়া,বমি বা বমি বমি ভাব,পেটে ব্যথা,জ্বর বা দুর্বলতা এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কোন ধরনের তরমুজ এড়িয়ে চলবেন?

বিশেষজ্ঞরা কিছু লক্ষণ দেখে তরমুজ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন-

  • টক বা অস্বাভাবিক গন্ধ বের হলে, কাটার পর পিচ্ছিল বা চটচটে ভাব দেখা দিলে ,ফলের গায়ে ছত্রাক বা অস্বাভাবিক দাগ থাকলে ,অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লাল রং বা ধোয়ার সময় রং পানিতে মিশে গেলে ।
নিরাপদ থাকার উপায়

তরমুজ খাওয়ার আগে ও সংরক্ষণে কিছু সতর্কতা মেনে চললে ঝুঁকি কমানো যায়-

  • কাটার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন ,পরিষ্কার ছুরি ব্যবহার করুন, কাটা ফল ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ফ্রিজে রাখুন ,দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন , দীর্ঘক্ষণ বাইরে রাখা কাটা ফল না খাওয়াই ভালো ।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে তরমুজ খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি-

  • শিশু: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় সহজেই সংক্রমিত হতে পারে
  • বয়স্ক: হজমশক্তি কম থাকায় সমস্যা বাড়তে পারে
  • গর্ভবতী নারী: যেকোনো সংক্রমণ মা ও ভ্রূণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
সচেতনতা বাড়ানোই সমাধান

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে সুস্থ থাকতে তরমুজের মতো পুষ্টিকর ফল খাওয়া জরুরি হলেও নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য সচেতনতাই পারে এই উপকারী ফলের সর্বোচ্চ উপকার পেতে এবং একই সঙ্গে এড়াতে অনাকাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যঝুঁকি।