বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ: অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু
১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:০১ পূর্বাহ্ণ
রয়টার্স ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেসএক্স বর্তমানে ইরানি ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যে স্টারলিংক সেবা সক্রিয় করেছে। যদিও ইরানে এই সেবা আইনত অবৈধ, তবু গত দুই বছরে আনুমানিক ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টার্মিনাল গোপনে দেশে ঢুকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্ল্যাকআউটের সময় এই ছোট ডিভাইসগুলোই বিক্ষোভের তথ্য বহির্বিশ্বে পাঠানোর প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
স্টারলিংক প্রথাগত ইন্টারনেটের মতো মাটির নিচের ক্যাবল বা মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল নয়। পৃথিবী থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় ঘূর্ণায়মান হাজার হাজার লো-আর্থ-অরবিট স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্ক সরাসরি ব্যবহারকারীর টার্মিনালে সংকেত পাঠায়। ইন্টারনেট পেতে কেবল একটি রিসিভার বা টার্মিনাল থাকলেই যথেষ্ট।
বর্তমান ব্ল্যাকআউটে ইরানিরা প্রক্সি টুলের পাশাপাশি এই স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনে থাকছেন, যা সরকারের নিয়ন্ত্রিত গেটওয়েগুলো কার্যকরভাবে বাইপাস করতে সক্ষম। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সরকারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী রাশিয়া ও চীন থেকে আনা সামরিক-গ্রেড জ্যামার ব্যবহার করে স্টারলিংকের সংকেত বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞ আমির রাশিদির ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানের মতো বড় শহরগুলোতে স্টারলিংকের ডেটা প্যাকেট লস ৩০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে ড্রোন ব্যবহার করে আবাসিক ভবনের ছাদে বসানো টার্মিনাল শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ২০১৫ সালের শেষ দিকে পাস হওয়া একটি আইনে স্টারলিংক ব্যবহারে ‘ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি’র অভিযোগ আনা যেতে পারে- যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও।
এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইলন মাস্কের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার ঘোষণা দিয়েছেন এবং ইরানিদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। বিপরীতে, ইরান এই উদ্যোগকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে অভিযোগ জানিয়েছে।
প্রযুক্তির এই দ্বন্দ্বে একদিকে স্টারলিংক সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে জ্যামিং প্রতিরোধের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইরান সরকার ‘ন্যাশনাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক’ বা নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট চালু করে বিশ্ব থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে এগোচ্ছে। এই ‘ডিজিটাল যুদ্ধ’-এর মাঝখানে সাধারণ ইরানিরা প্রতিদিন জীবনঝুঁকি নিয়ে তথ্য আদান-প্রদান চালিয়ে যাচ্ছেন।