শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

মার্কিন শাটডাউনে একদিনে বাতিল ১,৪৬০ ফ্লাইট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রী ও কর্মীরা


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘতম সরকারি অচলাবস্থার (শাটডাউন) কারণে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বিমান চলাচল কমানোর নির্দেশ দিয়েছে। শনিবার একদিনেই ১,৪৬০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে আমেরিকান ও ডেল্টার মতো বড় সংস্থার শত শত ফ্লাইট রয়েছে।বেতন ছাড়া কাজ করা কর্মীদের অসুস্থতা ও ক্লান্তিতে বিমান চলাচল আরও বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

৯ নভেম্বর ২০২৫, ৩:১০ অপরাহ্ণ 

মার্কিন শাটডাউনে একদিনে বাতিল ১,৪৬০ ফ্লাইট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রী ও কর্মীরা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘতম সরকারি অচলাবস্থা (শাটডাউন) অব্যাহত থাকায় ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বিমান চলাচল কমানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশনার দ্বিতীয় দিন, শনিবার (৮ নভেম্বর) মার্কিন বিমান সংস্থাগুলো এক হাজার ৪৬০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। তবে দেশের বেশিরভাগ ব্যস্ত বিমানবন্দরে এখনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

শনিবারের বাতিল হওয়া ফ্লাইট সংখ্যাটি সামগ্রিক ফ্লাইটের একটি ছোট অংশ হলেও শাটডাউনের প্রভাব আরও গভীর করেছে।

এফএএ জানিয়েছে, তাদের ৩৭টি বিমানবন্দরে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল কর্মীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে আটলান্টা, নিউয়ার্ক, সান ফ্রান্সিসকো, শিকাগো ও নিউইয়র্কসহ কমপক্ষে ১২টি বড় শহরে ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, প্রথম ধাপে ৪০টি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর থেকে চার শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার থেকে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ডেল্টা এয়ার লাইনস, সাউথওয়েস্ট এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রায় ৭০০টি ফ্লাইট এর আওতায় পড়েছে।

শনিবার উত্তর ক্যারোলিনার শার্লট বিমানবন্দর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে দুপুরের মধ্যে ১২০টি ফ্লাইট বাতিল হয়।

পরিবহন সচিব শন ডাফি সতর্ক করে বলেছেন, সরকারি শাটডাউন অব্যাহত থাকলে বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রকদের চাকরিচ্যুতির আশঙ্কা রয়েছে এবং ফ্লাইট আরও কমাতে হতে পারে। প্রায় এক মাস ধরে ১৩ হাজার বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক ও ৫০ হাজার নিরাপত্তা স্ক্রিনার বেতন ছাড়াই কাজ করছেন, ফলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

জাতীয় বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক সমিতি জানিয়েছে, বেশিরভাগ কর্মী সপ্তাহে ছয় দিন বাধ্যতামূলক ওভারটাইম করছেন এবং কেউ কেউ বিল পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত চাকরিও নিচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট যদি থ্যাংকসগিভিং ছুটির কাছাকাছি পৌঁছায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। যদিও এখন পর্যন্ত দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো স্বাভাবিক রয়েছে।

সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্যাট্রিক পেনফিল্ড বলেন, প্রধান ফ্লাইট ব্যাহত হলে শিপিং খরচ বাড়বে এবং তা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপর চাপবে। পর্যটন ও উৎপাদন খাতেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।

এলিভেট এভিয়েশন গ্রুপের সিইও গ্রেগ রাইফ বলেন, “এটি হোটেল কর ও শহরের কর আয়ে বড় প্রভাব ফেলবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে নাড়া দেবে।”

৩৬ বছর বয়সী যাত্রী এমি হলগুইন বলেন, “আমরা সবাই ভ্রমণ করি। আমাদের সবারই কোথাও না কোথাও পৌঁছানোর আছে। আমি আশা করছি সরকার দ্রুত বিষয়টি সমাধান করবে।”