বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

দুই দশকের বেশি সময়ের পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী


দুই দশকের বেশি সময়ের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সেনা প্রত্যাহারের পরও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর বড় ধরনের বিনিয়োগ ইরাকে অব্যাহত থাকবে।

১৫ জুলাই ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ 

দুই দশকের বেশি সময়ের পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর শুরু হওয়া প্রায় ২৩ বছরের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর আলী আল-জাইদি বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন সেনারা ইরাক ছাড়বে। তবে মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকে থাকবে।’ তিনি জানান, সেনা প্রত্যাহারের পর দুই দেশের সম্পর্ক অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেন, ‘আমরা মনে করি, সেখানে আর আমাদের সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন নেই।’ একই সঙ্গে তিনি ইরাকে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন। ইরাকের বিপুল তেলসম্পদ দেশটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে একাধিক নতুন চুক্তি হবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। তবে সম্ভাব্য চুক্তিগুলোর বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

ইরাকি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরাক, শেভরন, টিআই ক্যাপিটাল এবং কাতারের ইউসিসির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির আওতায় প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম একটি পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। পাইপলাইনটি বসরা থেকে হাদিথা হয়ে তুরস্ক ও সিরিয়ার বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলে জানা গেছে।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী অভিযানে একসময় ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে।

আলী আল-জাইদির সরকার জানিয়েছে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গেও সম্পর্কিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর আমেরিকান সেনারা চলে যাবে, আর আমেরিকান কোম্পানিগুলো আসবে। ওই তারিখের পর রাষ্ট্রের বাইরে কোনো গোষ্ঠীকে অস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হবে না।’

ওয়াশিংটন সফরের মূল লক্ষ্য ছিল ইরাকের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় আল-জাইদি দুই দেশের মধ্যে নতুন একটি ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব’ গড়ে তোলার ইঙ্গিত দেন।