পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
১ মার্চ ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অন্তত ১৫০টি বিশালাকার ট্যাংকার বর্তমানে প্রণালির বাইরে খোলা সমুদ্রে নোঙর করে আছে। এসব জাহাজের বড় অংশই অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহন করছে। প্রণালির অপর প্রান্তেও কয়েক ডজন জাহাজ স্থির অবস্থায় রয়েছে।
শিপিং বিশ্লেষকদের মতে, শনিবার সকালে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর পুরো অঞ্চল নতুন করে যুদ্ধঝুঁকিতে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ জাহাজ ইরাক, সৌদি আরব ও কাতারের উপকূলসংলগ্ন এলাকায় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালির এই গুরুত্বপূর্ণ ‘চোকপয়েন্টে’ জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন গুরুতর ঝুঁকিতে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। বর্তমানে প্রণালির বাইরে অপেক্ষমাণ জাহাজগুলোকে সংশ্লিষ্টরা ‘ভাসমান তেলের পাহাড়’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
এদিকে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বেশ কয়েকটি শীর্ষ তেল কোম্পানি ও ট্রেডিং হাউস হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এতে কাতারের মতো এলএনজি রপ্তানিনির্ভর দেশ এবং সৌদি আরবের মতো শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশের রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও পণ্য পরিবহন ব্যয়েও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন তারা।