এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চায় একটি মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক জরুরি আদেশে পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে দুর্যোগের কারণে প্রথমে কেবল চট্টগ্রাম, রাঙামাটি এবং পরবর্তীতে কক্সবাজার জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও, মধ্যরাতে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটায় শেষ পর্যন্ত পুরো বোর্ডের পরীক্ষাই স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে। তবে চট্টগ্রাম বোর্ড বাদে দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। এই অতি ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় ও দেয়ালধসের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম নগর, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারে এই দুর্যোগে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মাইসছড়ি এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় এই দুই জেলার সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের বিমান ও রেল যোগাযোগে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে ফিরে গেছে তিনটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট।
অন্যদিকে, রেললাইনের ওপর ব্যাপক পানি জমে থাকায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর স্টেশনে আটকে পড়ে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, জানআলীহাট ও ষোলশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন এখনও প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। ফলে কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরো অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।