মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

রক্তে ভাসলো ঘর: নওগাঁয় পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যা


নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) গভীর রাতে বাহাদুরপুর গ্রামে সংঘটিত এ নৃশংস ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে তাদের দুই শিশু সন্তানও নিহত হয়, যা ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।

২১ এপ্রিল ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ 

রক্তে ভাসলো ঘর: নওগাঁয় পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করার এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি তাদের দুই শিশু সন্তানও রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও বেশি মর্মান্তিক করে তুলেছে।

নিহতরা হলেন নমির হোসেনের ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি খাতুন (২৫), তাদের ছেলে পারভেজ ইসলাম (৯) এবং মেয়ে সাদিয়া রহমান (৩)। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন ঘরের বাইরে দরজার সামনে রক্তের দাগ দেখতে পান। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলে তিনি দ্রুত ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে খাটের ওপর চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় তার ছেলে, পুত্রবধূ ও দুই নাতি-নাতনির রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ দৃশ্য দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।

পরে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ামতপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে  পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেয় এবং ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের গলা কেটে হত্যা করে। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। পারিবারিক বিরোধ, শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিকভাবে আমরা এটিকে পরিকল্পিত বলে ধারণা করছি। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে কোনো কারণ বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটির পেছনে কারা জড়িত, তা উদঘাটনে পুলিশ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চালাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে এমন ভয়াবহ ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে বলেও জানা গেছে।