আসিয়ান কাপের জন্য বাংলাদেশের ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তার মোবাইল ফোনে আসা একের পর এক কলের সূত্র ধরে হত্যার রহস্য উন্মোচনের দিকে এগোচ্ছে তদন্ত। আইফোন নেওয়ার পাশাপাশি অপ্রতিমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নেওয়া নিয়ে বিরোধও হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য জানান বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহাত শীলা।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের করা হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তখন পর্যন্ত পুলিশ জানত না যে অপ্রতিমের মৃত্যু হয়েছে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পায় তারা।
জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। পরে শনিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। তবে সঙ্গে থাকা অন্যদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। অন্যদের নাম না বলার জন্য সে ‘ওয়াদাবদ্ধ’ ছিল বলে তদন্তকারীদের জানায়।
এ সময় তুহিনের মোবাইল ফোনে বারবার কল আসতে থাকে। কলগুলোর বিষয়ে সন্দেহ হলে তদন্তকারীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরে জানতে পারেন, অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোর ওই ফোনে কল করছিল। এরপর ওই কিশোরকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। তখন তার পরনে ছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা টি-শার্ট। পরে তুহিন আরেকজনের নাম জানালে তাকেও পুলিশ হেফাজতে নেয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অপ্রতিমের আইফোন নেওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে ওই কিশোর কাজ করত। অপ্রতিম তাকে ৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে অপ্রতিমের সঙ্গে ওই কিশোরের বিরোধ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, টাকা ফেরত চাওয়ায় ওই কিশোর অপ্রতিমের ওপর বিরক্ত ছিল। অপ্রতিম মারা গেলে ধার করা টাকা ফেরত দিতে হবে না- এমন চিন্তা থেকেও হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। তবে এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।