মিরপুরে ডিবির জালে ‘শ্যুটার জাকির’, দুই আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারের রামুতে প্রায় দুই হাজার আইফোন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় রামু থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। পরে গ্রেফতার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্তের পর রামুর মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, প্রায় ৪০টি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্তের পর ওই ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার কথা জানালেও পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। তিনি বলেন, বিষয়টি যাচাইয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষায়িত তদন্ত দল কাজ করে। পরে চীনা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের পর্যালোচনার পর গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন শেয়ারবাজার, জুয়া এবং বিভিন্ন কারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের পাসপোর্ট আগে থেকেই ব্লক করে দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে তারা দেশত্যাগ করতে পারেননি। ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের বিষয়ে সতর্কতা জারি থাকায় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলেও তাদের আটকে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রামুর মেরিন ড্রাইভ এলাকার কয়েকটি হোটেলে গত কয়েক মাস ধরে বিপুলসংখ্যক চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রটির দাবি, ব্লু ওশ্যানসহ মেরিন ড্রাইভ এলাকার কয়েকটি হোটেলে এসব বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, জব্দ করা ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এগুলো কী ধরনের কাজে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হতো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং জব্দ করা ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে চক্রটির কার্যক্রম ও এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, রামু থানায় করা মামলার তদন্ত চলছে। পাশাপাশি সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। জব্দ করা ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে এই চক্রের সঙ্গে দেশে ও দেশের বাইরে আর কারা জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।