বিয়ের পাঁচ মাসেই বিচ্ছেদ, আলাদা পথে বাদশাহ-ইশা
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
রাজধানীর মিরপুরে অভিযান চালিয়ে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও চার রাউন্ড গুলিসহ মো. জামিল হোসেন ওরফে শ্যুটার জাকির ওরফে মো. জাকির ওরফে খালাতোকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ। পুলিশের ভাষ্য, জাকির দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর এলাকায় অস্ত্রধারী শ্যুটার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের একটি দল মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পিস্তলের ম্যাগাজিনে থাকা দুই রাউন্ড গুলি, একটি কালো রঙের বিদেশি রিভলবার, রিভলবারের চেম্বারে থাকা দুই রাউন্ড গুলি এবং একটি খালি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
অপরাধীচক্রের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাকির দীর্ঘদিন ধরে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তারকারী একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীর ইসলাম জয়ের সহযোগী হিসেবে তিনি সক্রিয় ছিলেন বলেও পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে। পরবর্তী সময়ে তিনি তাজকির আহমেদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাজকিরের বিরুদ্ধেও কাজীপাড়ার আলোচিত আনিস হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তাকে মালয়েশিয়া যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং মামলার নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
৫ আগস্টের পর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাজকির আহমেদ আত্মগোপনে চলে যান। এরপর জাকির তাজকিরের ছোট ভাই আলমগীরের আশ্রয়ে থেকে তার সহযোগী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রগুলোর আরও দাবি, জাকির অস্ত্র ব্যবহারে পারদর্শী হওয়ায় বিভিন্ন বিরোধ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাকে ব্যবহার করা হতো। অর্থ বা চুক্তির বিনিময়ে অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রেও তাকে কাজে লাগানোর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এবং জাকিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের ধরন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
চাঁদাবাজি ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে আলমগীরের নেতৃত্বাধীন একটি চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যবসায়িক ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখাতে অস্ত্রধারীদের ব্যবহার করা হতো। জাকিরকে ওই চক্রের অস্ত্রধারী সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করা হতো কি না, সেটিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। তবে আলমগীরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্তে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সিজুকে গুলির ঘটনায়ও জাকিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ
গত ৭ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম সিজুকে (৩৮) লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গেও জাকিরের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত মো. কাওছার ভুইয়া ওরফে শান্ত ওরফে এসবিকে (২৪) অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় দুটি পৃথক মামলা করা হয়। এর একটি হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে এবং অন্যটি অস্ত্র আইনে। মামলা দুটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
জাকিরকে ঘিরে অপরাধী নেটওয়ার্কের তথ্য খতিয়ে দেখার সুযোগ
ডিবির হাতে জাকির গ্রেফতার হওয়ার পর তার কাছে পাওয়া অস্ত্রের উৎস, কার নির্দেশে তিনি অস্ত্র বহন করতেন, অস্ত্রগুলো কোনো অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে কি না এবং তার সঙ্গে আর কার কার যোগাযোগ ছিল-এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
একই সঙ্গে মিরপুর-কাজীপাড়া-সেনপাড়া এলাকায় চাঁদাবাজি, অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগের সঙ্গে এই চক্রের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে পরিষ্কার হতে পারে।
গ্রেফতার জাকিরের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।তবে তাকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ, আনিস হত্যা মামলায় তাজকিরের আসামি হওয়ার তথ্য, তার রাজনৈতিক পদ, ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে যাওয়ার দাবি এবং আলমগীরের আশ্রয়ে থাকার অভিযোগ- এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।