২৭-২৮ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’-এর মতো চাঁদ
২৩ আগস্ট ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
রংপুরে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস। সিদ্ধার্থ নগরীর পিকে জুয়েলার্সে এবং মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।
পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে স্থানীয় সীমান্ত নামের এক ব্যক্তির বাসায় সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান।
পুলিশের দাবি, সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন। এ সময় অভিযুক্তরা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে আসার সময় সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
পুলিশ কমিশনার বলেন, মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী সেখানে এলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যা করতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গামছার পাশাপাশি গলা ও বুকে রশি পেঁচিয়ে টানা হয়। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায় বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকেও হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে প্রিয়ম খেলাধুলা করত। তাকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ওই বাড়ির বাথরুমে গিয়ে গোসল করেন। এরপর ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খান। পরে বাড়ির ভেতরেই আরও একবার ইয়াবা সেবন করেন তারা। তদন্তকারীদের দাবি, দুটি স্মার্টফোন থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্টের সম্ভাব্য প্রমাণ মুছে ফেলতে সেগুলো ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে চুবিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার পরীক্ষা করতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আগুন জ্বালিয়েছিলেন। পরে স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়। পরে মন্দিরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে স্বর্ণালংকারগুলো লুকিয়ে রাখেন তারা। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেগুলো উদ্ধার করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
পুলিশ কমিশনার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর সকাল হয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। এ কারণে তারা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট তুলনামূলক ফাঁকা থাকায় ওই সময় তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এ ঘটনায় রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।