শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: মাদক, জুয়া ও পরকীয়া-খুনি সোহেল রানার অতীতজুড়ে শুধুই অপরাধ


রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঘিরে সামনে এসেছে তার অতীত জীবনের নানাবিধ অপকর্মের তথ্য। গ্রামে মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত সোহেল ঋণে জর্জরিত হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। এমনকি ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে ভেঙেছিল তার ১০ বছরের প্রথম সংসারও। দ্বিতীয় বিয়ের পর ঢাকায় এসেও তার অপরাধপ্রবণতা কমেনি, যার সর্বশেষ নৃশংস বহিঃপ্রকাশ ঘটে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার মধ্য দিয়ে।

২২ মে ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ 

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: মাদক, জুয়া ও পরকীয়া-খুনি সোহেল রানার অতীতজুড়ে শুধুই অপরাধ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মূল আসামি সোহেল রানার অন্ধকার অতীতের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে। তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক, অনলাইন জুয়া এবং অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত ছিল।

রামিসার ধর্ষক ও খুনি সোহেল রানার বাড়ি নাটোরের মহেশচন্দ্রপুরে। সেখানে সে রিকশা মেরামতের কাজ করত। প্রায় ১০ বছর আগে সে প্রথম বিয়ে করে এবং সেই ঘরে তার একটি সন্তানও রয়েছে। তবে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় তার সেই সংসার ভেঙে যায়। এরপর বছর তিনেক আগে পাশের গ্রামে সে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এলাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়লে পরিবারের চাপে একপর্যায়ে সে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।

সোহেল রানার ছোট বোন জলি বেগম জানান, "বছর তিনেক আগেই পরিবার থেকে বের করে দেওয়া হয় তাকে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই। সে মা-বাবার কোনো খোঁজখবর বা খরচের টাকাও দিত না। এলাকায় মাদক, জুয়াসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিল সোহেল রানা।"

গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসে মিরপুর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট নেয় সোহেল রানা। ওই বাসার কেয়ারটেকার মনির জানান, পরিচিত দুজনের সুপারিশে তিনি সোহেলকে নিজের গ্যারেজে কাজ দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজে নিয়মিত না হওয়ায় ১৫ দিন পরই তাকে গ্যারেজ থেকে বের করে দেন। ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মাসুদ জানান, কেয়ারটেকারের কথামতোই তিনি সোহেলকে বাসায় সাবলেট দিয়েছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকায় সোহেল রানার থাকা এবং কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল তাদেরই গ্রামের সাদ্দাম ও হানিফ নামের দুই ব্যক্তি। এর প্রায় ৬ মাস আগে সাদ্দামের মাধ্যমে বিহারি ক্যাম্পের এক বাসায় সাবলেট নিয়েছিল সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। কিন্তু সেখানেও নিয়মিত মাদক সেবন করায় বাড়ির মালিক তাদের বাসা ছাড়তে বাধ্য করেন। বিহারি ক্যাম্পের ওই বাড়ির মালিক বলেন, "আমার বাসায় সে দুই মাস ছিল। সোহেল নিয়মিত ইয়াবা সেবন করত। আমার স্ত্রী এসব পছন্দ করে না, তাই বাধ্য হয়ে ওদের আমাদের বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলাম।"

সর্বশেষ পল্লবীর সাবলেট বাসায় একা পেয়ে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় সোহেল রানা। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করে। বুধবার আদালতে হাজির করা হলে সোহেল রানা নিজে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সে ঘটনার আগে ইয়াবা সেবনের কথাও স্বীকার করেছে।