বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

ডলারের দর ধরে রাখতে ব্যাংক থেকে ২১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক


প্রবাসী আয় ও রপ্তানি প্রবাহ বাড়ায় দেশের ডলার বাজারে উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ডলারের দর কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ 

ডলারের দর ধরে রাখতে ব্যাংক থেকে ২১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এতে ডলারের দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে মোট ২১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে এই ডলার ক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই নির্ধারিত ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ৪১৫ কোটি মার্কিন ডলার বা ৪ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার মারাত্মক অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। সে সময় প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তখনকার সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করতে হয়।

তথ্য অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ একই সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনা হয়েছিল মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার রোধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়- উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়। ফলে ডলারের সরবরাহ বাড়ে। সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় স্বাভাবিক নিয়মে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে অস্থিতিশীলতা এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে ডলার কিনে নিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে। বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তা ধারাবাহিকভাবে কমে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।