পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন এবং পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের পেঁয়াজের বাজার। মাঠ থেকে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে, কয়েক দিনের মধ্যেই বাজার নতুন পেঁয়াজে ভরে উঠবে— এমন পরিস্থিতিতেও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দফায় দফায় দাম বাড়াচ্ছে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট—সরবরাহ কম দেখিয়ে সরকারকে আমদানির অনুমতি দিতে চাপ সৃষ্টি করা এবং বাড়তি মুনাফা আদায়।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবছরই এই সময়ে পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। গত মৌসুমে ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষকরা আগেই সব পেঁয়াজ বিক্রি করে দিয়েছিলেন। ফলে বাজারে এখন পুরোনো পেঁয়াজের নিয়ন্ত্রণ মূলত মজুতদারদের হাতে। তারা সুযোগ বুঝে পেঁয়াজ আটকে রেখে দাম বাড়াচ্ছেন এবং আমদানির দাবি তুলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছেন।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাওরান বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১৫০ টাকা, নয়াবাজারে ১৪০ টাকা, রামপুরা বাজারে ১৬০ টাকা, আর জিনজিরায় ১৪০-১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ দুই দিন আগেও দাম ছিল সর্বোচ্চ ১১০ টাকা। অক্টোবরের শেষদিকে এটি ছিল ৭০ টাকা, আর সেপ্টেম্বরে ৬০-৬৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে।
নয়াবাজারে ক্রেতা মো. ইমদাদুল হক বলেন, “বাজারে পেঁয়াজ আছে, তারপরও বিক্রেতারা এক মাস ধরে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। আজ এসে দেখি ১৫০ টাকা— যা দেখার কেউ নেই।”
শ্যামবাজারে পাইকারি আড়তগুলোতেও চাপ বাড়ছে। আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরোনো পেঁয়াজ প্রতিপাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা, অর্থাৎ কেজিপ্রতি ১২০ টাকা। চার দিন আগে এর দাম ছিল ৭০-৮০ টাকা। এক মাস আগেও শ্যামবাজারে একই পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
শ্যামবাজারের আড়তদার হেদায়াত উল্লাহ দাম বাড়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “দেশে পেঁয়াজের সংকট রয়েছে। পুরোনো পেঁয়াজে গাছ হয়ে গেছে; নতুন পেঁয়াজ কৃষক ধরে রাখছে। তাই সরবরাহ কম, দাম বেশি। আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে দাম স্বাভাবিক হবে।”
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. জামাল উদ্দীন এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,
“বাজারে সরবরাহের প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। আমদানির অনুমতি দিতে সরকারকে বাধ্য করতেই সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এখনো এক লাখ টনের বেশি পুরোনো পেঁয়াজ মজুত রয়েছে।”
ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, পেঁয়াজের বাজারে নৈরাজ্য চললেও প্রশাসন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় আছে। ফলে সিন্ডিকেট সুযোগ পেয়ে বাজারকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে।