পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০৪ অপরাহ্ণ
দেশের তেলের বাজারে আবারও নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনুমতি ছাড়াই উৎপাদক কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৯ টাকা বাড়িয়ে ডিলারদের কাছে সরবরাহ করছে। একই সঙ্গে বাজার শূন্য করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বাণিজ্য উপদেষ্টার হুঁশিয়ারি বা সতর্কতাও যেন কোনো কাজে আসেনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার—জিনজিরা, নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার এবং কাওরান বাজার—ঘুরে দেখা যায়, বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে ১৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১৮৯ টাকা।
এদিন সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেখানে ৯ টাকার বদলে ৫ টাকা বাড়ানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। তবে সারাদিনই বাজারে বাড়তি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে।
অনুমতি ছাড়াই দাম বাড়ানোর অভিযোগ
বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ১০ নভেম্বর এবং ২৪ নভেম্বর দুই দফায় তেলের দাম বাড়ানোর অনুমতি চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলেও মন্ত্রণালয় কোনো সাড়া দেয়নি। পরে উৎপাদকরা নিজেদের সিদ্ধান্তে লিটারপ্রতি ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করে নতুন মোড়ক ছাপিয়ে তেল বাজারে ছাড়ে।
ফলে খুচরা পর্যায়ে ক্রেতাদের বাড়তি দামেই তেল কিনতে হচ্ছে।
বাজারে কৃত্রিম সংকটের চিত্র
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জিনজিরা কাঁচাবাজারে ১১টি দোকানের মধ্যে মাত্র ৬টিতে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। অনেক বিক্রেতা জানান, ডিলাররা চাহিদার তুলনায় কম কার্টন সরবরাহ করছেন।
মুদি ব্যবসায়ী মো. শাকিল বলেন,
“ডিলাররা ২০ কার্টন চাইলেও ৮ কার্টন দিচ্ছে। মনে হচ্ছে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেই দাম বাড়ানো বৈধ করার চেষ্টা চলছে।”
নয়াবাজার এলাকায় দুপুরে দেখা যায়—খুচরা বিক্রেতারা দোকান থেকে তেল লুকিয়ে রাখছেন। কারণ জানতে চাইলে জানান, বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হতে পারে—নতুন দামের তেল পাওয়া গেলে জরিমানা করা হবে।
খুচরা বিক্রেতাদের অসহায়ের চিত্র
মুদি বিক্রেতা মো. তুহিন বলেন,
“আমরা তো নিজেরা দাম বাড়াইনি। ডিলাররা বাড়তি দামে দিচ্ছে, আমরা সেই দামে কিনেছি। কিন্তু জরিমানা করা হয় আমাদের। কোম্পানিগুলোকে কেউ কিছু বলে না।”
কাওরান বাজারেও দেখা যায়, ডিলারদের কাছে বাড়তি দামের তেল থাকলেও খুচরা দোকানগুলোতে খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতারা বাড়তি দামে বিক্রি করতে ভয় পাচ্ছেন, কারণ যে কোনো সময় অভিযান হতে পারে।
মুদি ব্যবসায়ী মকবুল আলম বলেন,
“বাজারে কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করছে কোম্পানিগুলো। তারা দাম বাড়িয়েছে—সেই দামে কিনতেও হচ্ছে, বিক্রি করতেও হচ্ছে। কিন্তু জরিমানা করা হয় আমাদের।”
ভোক্তা অধিকার ও ক্যাবের অবস্থান
ক্যাব সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন,
“সরকারকে না জানিয়ে তেলের দাম বাড়ানো আইন লঙ্ঘন। রিফাইনারি বন্ধ করে দেওয়ার মতো বিধান আইনেই আছে। প্রতিযোগিতা আইন ও ভোক্তা অধিকার আইনে মজুতদারি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা আছে।”
তিনি সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন জানান,
ব্যবসায়ীরা সরকারের কাউকে না জানিয়েই দাম বাড়িয়েছে—তাই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন,
“ভোজ্যতেল আগের দামেই বিক্রি করতে হবে। অতিরিক্ত দাম নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রিফাইনারি অ্যাসোসিয়েশনের দাবি
অ্যাসোসিয়েশনের একটি সূত্র জানায়,
“অ্যাসোসিয়েশন একটি মূল্য নির্ধারণ করে সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে। সরকার যদি নতুন মূল্য ঘোষণা না করে, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন দাম কার্যকর হবে।”