সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম


মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য হ্রাসের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৬ ডলারে পৌঁছেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ও খুচরা বিক্রির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব তথ্য থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারসংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়ার আশা করছেন তারা।

১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ 

বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ডলারের দুর্বলতা এবং জ্বালানি তেলের দাম কমে আসায় মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সুদের হার নিয়ে নতুন তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম আগের অবস্থানের তুলনায় দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৬ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের শুরুর দিকে দাম ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত স্বর্ণের ফিউচার্সের দামও দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৩০ ডলারে ওঠে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতি এবং ডলারের দর কমে আসা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, তেলের মূল্য কমায় মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে বাজারের তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এতে বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে স্বর্ণের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রোববার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি খাতকেন্দ্রিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, চুক্তির বিস্তারিত জানতে তিনি অপেক্ষা করছেন। রাশিয়া থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনাও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

স্বর্ণের বাজারে পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুধবার দেশটির ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে উৎপাদক মূল্য সূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য। এসব পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা পেতে চাইছেন বিনিয়োগকারীরা।

সাধারণত মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সম্পদের আকর্ষণ কমতে পারে। কারণ, স্বর্ণ থেকে সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না; ফলে সুদযুক্ত বিনিয়োগের তুলনায় এটি কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৭ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৬ শতাংশ ধরে হিসাব করছেন।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ভোক্তা আস্থার সূচকেও, যা অক্টোবরের শুরুতে আরও নিম্নমুখী হয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার স্পট সিলভারের দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়ায়। এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭০৪ দশমিক ৭০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৬১ দশমিক ৮১ ডলারে পৌঁছেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তা ব্যয়ের পরিসংখ্যানের দিকে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশায় পরিবর্তন এলে স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর বাজারেও নতুন প্রভাব পড়তে পারে।