ভরিতে ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা কমল সোনার দাম
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পাশাপাশি বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়েও মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পিআইডি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বেসরকারি খাতের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়িয়ে থাকে। মন্ত্রিসভায় থাকা কয়েকজন নিয়োগকর্তাও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন জাতীয় পে-স্কেল মূলত নির্ধারিত সরকারি বেতন কাঠামোর আওতাভুক্ত কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য। এর আগে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা অধিকতর যৌক্তিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও বর্ধিত অর্থ ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়াও শিগগির শুরু হবে। প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামোয় গ্রেডভেদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
নবম পে-স্কেল অনুযায়ী প্রথমবারের মতো ‘প্রতিবন্ধী সন্তান’ ভাতাও চালু হতে যাচ্ছে। এ ভাতার আওতায় সরকারি কর্মচারীরা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এ বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
প্রথম গ্রেডে মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রেডে ৬৬ হাজার থেকে ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকার বেতন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
তৃতীয় গ্রেডে বর্তমান ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৯৮ হাজার ৮০০ টাকার বেতন বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা। চতুর্থ গ্রেডে ৫০ হাজার থেকে ৯১ হাজার ২০০ টাকার বেতন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।
পঞ্চম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকার মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা। ষষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকার বেতন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।
সপ্তম গ্রেডে বর্তমান ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকার বেতন বেড়ে হয়েছে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৮০০ টাকা। অষ্টম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকার বেতন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকা।
নবম গ্রেডে ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকার বেতন বেড়ে হয়েছে ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা। দশম গ্রেডে ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকার মূল বেতন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।
একাদশ গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকার বেতন বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা। এই ১১টি গ্রেডেই প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ।
এরপর নিম্ন গ্রেডগুলোর ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার আরও বেশি রাখা হয়েছে। ১২তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১১৫ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা হয়েছে। সর্বোচ্চ বেতন ২৭ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা।
১৩তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১১৮ শতাংশ। এ গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা থেকে ৫৮ হাজার টাকা হয়েছে।
১৪তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১৩০ শতাংশ বেড়েছে। এই গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রারম্ভিক বেতন হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টাকা।
১৫তম ও ১৬তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৩৫ শতাংশ। ১৫তম গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২২ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।
১৭তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ১৩৮ শতাংশ। এ গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ৪০০ টাকা। ১৮তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১৩৯ শতাংশ, যেখানে প্রারম্ভিক বেতন ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার টাকা।
১৯তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১৪১ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে।
সবশেষে ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এই গ্রেডে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ বেতন ২০ হাজার ১০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা।
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পাশাপাশি এবার বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়েও মন্ত্রিসভায় আলোচনার খবর সামনে এলো। তবে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কোনো নতুন বেতন কাঠামো বা বাধ্যতামূলক বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।