বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

ঈদের ছুটিতে তেলশূন্য পাম্প, লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরছেন অনেকেই


ঈদের পুরো ছুটিজুড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পাম্পে তেল না থাকায় বন্ধ রাখতে হয়েছে, আর যেগুলো খোলা ছিল সেখানেও রেশনিং করে সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হয়েছে। ব্যাংক ও ডিপো বন্ধ থাকায় নতুন করে তেল তোলা না যাওয়াই এই সংকটের মূল কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

২৩ মার্চ ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ 

ঈদের ছুটিতে তেলশূন্য পাম্প, লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরছেন অনেকেই
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ঈদের ছুটির পুরো সময়জুড়েই রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে তেলের সংকট দেখা যায়। অনেক পাম্পে তেল না থাকায় সেগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে। যেসব পাম্পে তেল ছিল, সেখানেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়ে রেশনিং করে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং দেশের ভেতরে আতঙ্ক- এই দুই কারণে শুরু হওয়া তেলের অস্থিরতা ঈদের আগে কিছুটা কমলেও ছুটির সময় আবার তা তীব্র আকার ধারণ করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের ছুটির কারণে ব্যাংক ও ডিপো বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা নতুন করে তেল তুলতে পারেননি। ফলে মজুত থাকা তেল দিয়েই সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। কোথাও কোথাও তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

রোববার ঢাকার শ্যামলী এলাকায় সাইফুল ইসলাম নামে এক বাইকার সকাল থেকে কয়েকটি পাম্প ঘুরে শেষে একটি পাম্পের লাইনে দাঁড়ান। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরে যেতে হয় তাকে।

মিরপুরের বাসিন্দা রাকিব হাসান জানান, ঈদের দিন জরুরি কাজের জন্য বের হয়ে তিনি অন্তত ৮ থেকে ১০টি পাম্প ঘুরেছেন। কোথাও অকটেন পাননি। শেষ পর্যন্ত বিজয়সরণীর একটি পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ২০০ টাকার তেল নিয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে।

চট্টগ্রামের অধিকাংশ পাম্প বন্ধ ছিল। যে দু-একটি খোলা ছিল, সেগুলোতে দীর্ঘ যানবাহনের লাইন দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল করিম বলেন, শুক্রবার দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছেন। এর বেশি দেওয়া হয়নি।

রাজশাহী এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। তেল কিনতে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটছেন বাইকাররা। শহরের কাদিরগঞ্জ এলাকার তানভীর আহমেদ বলেন, রোববার তিনটি পাম্প ঘুরে শেষে একটিতে তেল পেলেও সেখানে সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

রংপুর নগরীতেও সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক পাম্প পুরোপুরি বন্ধ ছিল। খোলা পাম্পগুলোতে তেল নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। স্থানীয় বাইকার সুমন মিয়া বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায়ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা গেছে। দুই-একটি পাম্পে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার সীমায় তেল বিক্রি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, বেশিরভাগ পাম্পেই তেল নেই। যে কয়েকটিতে আছে, সেগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেড়েছে।  মূল সমস্যা হচ্ছে পে-অর্ডার সংকট। ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা পে-অর্ডার করতে পারছেন না। আর পে-অর্ডার ছাড়া ডিপো থেকে তেল তোলা সম্ভব নয়। ফলে চাইলেও সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। ঈদের ছুটির পর সোমবার ডিপো খোলার কথা রয়েছে।

নাজমুল হক আরও বলেন, ব্যাংক না খুললে ডিপো খুলেও লাভ নেই, কারণ পে-অর্ডার ছাড়া ডিপো থেকে তেল আনা যায় না। আগে সরকারি ছুটির সময় চেকের বিনিময়েও তেল নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু চেক নিয়ে বিভিন্ন ঝামেলার কারণে সেই সুবিধা তুলে নেওয়া হয়েছে।

সরকার গত ৬ মার্চ জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং চালু করলেও ১৫ মার্চ তা তুলে নেওয়া হয়। তবে বাস্তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি কমেনি। বরং টানা ছুটির কারণে সংকট আরও প্রকট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটিতে জ্বালানি তেলের এই সংকট সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘ লাইন, সীমিত বিক্রি এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে অনেকের ঈদের আনন্দও ম্লান হয়ে গেছে।