শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

জ্বালানি তেল সরবরাহে দৈনিক কোটা নির্ধারণ, অতিরিক্ত মজুদ ঠেকাতে বিপিসির নির্দেশনা


দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগ এবং অস্বাভাবিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। পরিস্থিতি সামাল দিতে যানবাহনভিত্তিক দৈনিক জ্বালানি সরবরাহের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগ এবং অস্বাভাবিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। পরিস্থিতি সামাল দিতে যানবাহনভিত্তিক দৈনিক জ্বালানি সরবরাহের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

৬ মার্চ ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ 

জ্বালানি তেল সরবরাহে দৈনিক কোটা নির্ধারণ, অতিরিক্ত মজুদ ঠেকাতে বিপিসির নির্দেশনা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগ এবং অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। একই সঙ্গে যানবাহনভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহের একটি দৈনিক কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে মজুদ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু রাখা যায় এবং অযৌক্তিক মজুদ ঠেকানো সম্ভব হয়।

চট্টগ্রামের বিপিসি কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য জ্বালানি তেলের ব্যবহার অপরিহার্য হলেও ব্যবহৃত তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে কখনও কখনও আমদানি কার্যক্রম বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ অবস্থায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ভোক্তা ও ডিলারের মধ্যে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিপিসি।

সংস্থাটি জানায়, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে অনেক ডিলার ডিপো থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তেল উত্তোলনের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি কিছু ভোক্তা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুদ করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১০ লিটার অকটেন বা পেট্রোল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কন্টেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল সরবরাহ করা যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফিলিং স্টেশনগুলোকে জ্বালানি বিক্রির সময় পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে নগদ স্মারক দিতে হবে এবং পুনরায় জ্বালানি নেওয়ার আগে আগের ক্রয়ের বিলের কপি জমা দিতে হবে। ডিলারদেরও নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করতে হবে এবং ডিপোতে মজুদ ও বিক্রির তথ্য জমা দিতে হবে।

বিপিসি জানায়, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে তেলের চালান দেশে আসছে। প্রধান স্থাপনা থেকে রেল ওয়াগন ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে সারা দেশের ডিপোগুলোতেও নিয়মিত জ্বালানি পাঠানো হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই পর্যাপ্ত বাফার মজুদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে জ্বালানি বিক্রি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে বিপিসি।