পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে অচলাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) উভয় ক্যাটাগরির তেলের দামই কয়েক দফায় বেড়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার লেনদেনের এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ফিউচার ২৪ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭০.৫৯ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শেষে সরবরাহ ঝুঁকির আশঙ্কায় এই দাম আরও বেড়ে ৭১.৪৮ ডলারে থিতু হয়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের কাছাকাছি বেড়ে ৬৬.৩৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও বর্তমান পরিস্থিতি:
ইরান গত মঙ্গলবার সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেয়। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারও সেখানে যৌথ মহড়া পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতিদিন বিশ্ববাজারে সরবরাহকৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথে সামান্যতম বিঘ্নও বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে।
নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া তেলের বাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে বলেন: "উত্তেজনা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ কোনো সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা আপাতত কম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম অতিরিক্ত বাড়ানো বা বড় কোনো যুদ্ধে জড়ানো পছন্দ করবেন না। কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা সম্ভবত সীমিত এবং স্বল্পমেয়াদি হবে।"
তবে বিনিয়োগকারীরা এখনো শঙ্কিত। একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় চলমান আলোচনার ব্যর্থতা, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের যৌথ নৌমহড়ার পরিকল্পনা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (EIA) প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুতও সম্প্রতি হ্রাস পেয়েছে, যা দাম বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ওমান সাগরে এবং পারস্য উপসাগরে বিদেশি ও স্থানীয় সামরিক জাহাজের উপস্থিতি তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতি শান্ত না হলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।