বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ: অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু
২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, শিক্ষকদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলাও শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নিয়ে আয়োজিত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, পড়ালেখাকে শিশুদের জন্য ‘ফান’ হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। শিক্ষা সহজ ও আকর্ষণীয় হলে বাচ্চারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শেখার প্রতি আগ্রহী হবে। শুধু একাডেমিক পড়াশোনা নয়, শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিকে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, খেলাধুলা ও আর্ট অ্যান্ড কালচার শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে শিশুদের অপ্রয়োজনীয় ইন্টারনেট আসক্তি থেকেও দূরে রাখা সম্ভব হবে।
‘মব’ বা সামাজিক অবক্ষয় সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে শিশুদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকারের অনেক সামাজিক প্রকল্প থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে সংগঠিত নয়। বিএনপি সরকার গঠন করলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে এসব সুবিধা এক জায়গায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে হবে। উৎপাদক ও ভোক্তার মাঝখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা স্বাভাবিক হলেও কেউ অনৈতিকভাবে লাভ করতে চাইলে তা প্রতিরোধ করা হবে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেও অনেক সময় পণ্যের দাম বেড়ে যায় উল্লেখ করে তিনি কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি এসব বিষয়েও নজর দেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, যে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। এই দুটি বিষয় সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে অন্যান্য সমস্যাও অনেকাংশে সমাধান হবে।
নগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, রোড ডিজাইন, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা এবং চাকরি—সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় যানজট বেড়েছে। এ সমস্যা সমাধানে ঢাকার বাইরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থাকবে।
গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্লাইওভার ও মেট্রোরেল নির্মাণ হলেও মেট্রোরেল ব্যয়বহুল এবং বেশি জায়গা নেয়। এক্ষেত্রে মনোরেল তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে, যা ছোট বগির মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব।
প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, অনেক তরুণ অদক্ষ অবস্থায় বিদেশে যাচ্ছেন। তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য বিএনপির সুপরিকল্পিত উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।