সুস্পষ্ট লঘুচাপে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
৬ জুলাই ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পৃথক চারটি স্থানে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটে।
ক্যাম্প প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাত ৩টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর মাটিচাপা পড়ে। এতে চারজন নিহত হন এবং একজন আহত হন।
নিহতরা হলেন- আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)।
এর আগে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের (৪৪) বসতঘর ধসে পড়ে। এতে কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
একই রাতে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকেও পাহাড়ের ঢলে মাটিচাপা পড়ে সাত বছর বয়সী একরাম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। এদিকে রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা জানান, দিনভর ভারি বৃষ্টির পর রাতেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। প্রথমে ১৫ নম্বর ক্যাম্পে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। উদ্ধারকাজ চলাকালে ডিএমসি কমিটির মাধ্যমে ১১ নম্বর ক্যাম্পেও পাহাড়ধসের খবর পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ১১ নম্বর ক্যাম্পে স্থানীয়রা চারজনকে উদ্ধার করলেও তারা সবাই ঘটনাস্থলেই মারা যান। ফলে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হয়নি। অন্যদিকে ১৫ নম্বর ক্যাম্প থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে দুজনকে ফায়ার সার্ভিস এবং একজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।
ডলার ত্রিপুরা আরও জানান, টানা ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনও রয়েছে। তাই পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী আরও দুই দিন ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।