বেলজিয়ামের ২৩ শট একাই থামালেন ইরান গোলরক্ষক়, গোলশূন্য ড্র বেলজিয়াম-ইরান ম্যাচ
২২ জুন ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দেওয়া সেই বিরল ধবল বা অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) স্থানান্তর করা হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত রবিবার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে মহিষটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএলআরআই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জাত উন্নয়ন ও জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের জন্য এই সাদা মহিষটি এখন থেকে স্থায়ীভাবে সাভারের ওই গবেষণা সংস্থাতেই থাকবে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
বিএলআরআই সূত্র জানিয়েছে, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া এবং সুরক্ষার স্বার্থে মহিষটিকে বর্তমানে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের প্রাথমিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এই সময়ে প্রাণীটির স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বায়োসিকিউরিটি বা জৈব-নিরাপত্তার কারণে বাইরের সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।
বিরল এই প্রাণীর তত্ত্বাবধান ও গবেষণার জন্য বিএলআরআই ইতিমধ্যেই ১৩ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মহিষ উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেবকে। ড. গৌতম কুমার দেব বিবিসি স্টাইলের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন: "মূলত জাত উন্নয়নসংক্রান্ত গবেষণার জন্য মহিষটিকে এখানে আনা হয়েছে। এর জিনগত বৈশিষ্ট্য, উৎপাদন সম্ভাবনা এবং প্রজনন সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। বর্তমানে প্রাণীটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে।"
তিনি জানান, দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন শেষ হওয়ার পরপরই মূল গবেষণা কার্যক্রম শুরু হবে। ব্যতিক্রমী সাদা রঙের কারণে 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' নামে পরিচিতি পাওয়া এই মহিষটির জন্ম ও লালন-পালন হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের 'রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে'। চলতি বছরের ঈদুল আজহার আগে পুরান ঢাকার জিন্দাবাহার এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান কোরবানির উদ্দেশ্যে খামারটি থেকে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় মহিষটি কিনেছিলেন।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিষটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
পরবর্তীতে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং বিরল এই প্রাণীর জীবন রক্ষার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানা ও মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা হয়ে দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে মহিষটি পৌঁছাল দেশের শীর্ষ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে।