শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

কুয়াকাটায় পতিতাবৃত্তির অভিযোগে জামায়াত সভাপতি বহিষ্কার


পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নিজ বাড়িতে পতিতাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে কুয়াকাটা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আ. হালিমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগটি দলীয় নীতিমালা ও আদর্শ পরিপন্থী হওয়ায় রবিবার বিশেষ রোকন বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ 

কুয়াকাটায় পতিতাবৃত্তির অভিযোগে জামায়াত সভাপতি বহিষ্কার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নিজ বাড়িতে পতিতাদের আশ্রয় এবং এ কাজের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে কুয়াকাটা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আ. হালিমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার দলটির আয়োজিত বিশেষ রোকন বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলে জানা গেছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুয়াকাটা পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা মো. শহীদুল ইসলাম। বৈঠকে কুয়াকাটা পৌর জামায়াত ও কলাপাড়া উপজেলা জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানায় তাঁরা।
তাঁরা বলেন,অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশেষ রোকন বৈঠক আহ্বান করা হয়। বৈঠকে উত্থাপিত অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীর নীতিমালা ও আদর্শ পরিপন্থী। তাই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আ. হালিমকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌর জামায়াতের সাবেক আমির আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ মাঈনুল ইসলাম মন্নান, লতাচাপলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির রাসেল মুসুল্লি, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আল আমিন মৃধা, যুব জামায়াতের সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সিকদার এবং জামায়াতের ৩নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন ফরাজি।
কুয়াকাটা পৌর জামায়াতের সাবেক আমির আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ মাঈনুল ইসলাম মন্নান বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন। এখানে ব্যক্তির চেয়ে সংগঠনের আদর্শ ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নেতার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তা দলীয়ভাবে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। সংগঠনের সুনাম ও আদর্শ রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা জামায়াত ইসলামের আমির মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম বলেন,একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বিশেষ রোকন বৈঠক ডেকে কুয়াকাটা পৌর ৫নং ওয়ার্ড সভাপতিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলাম করতে হলে অবশ্যই সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন ও দলীয় নীতিমালা মেনে চলতে হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আ. হালিম বলেন, আমার বাসায় ছয়টি পরিবার ভাড়া থাকে। এর মধ্যে একটি বাসায় মা-মেয়ে পরিচয়ে চারজন নারী দুই মাস আগে ভাড়া নেয়। তারা কোথায় কী কাজ করে, তা আমার জানার বিষয় নয়। আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। বিষয়টি নিয়ে আমি শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করবো।
জামায়াত নেতারা আরও জানান, ভবিষ্যতে সংগঠনের আদর্শ ও নৈতিকতা পরিপন্থী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী কঠোর অবস্থানে থাকবে।