জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল, অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫ টাকা
২ মার্চ ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সি খামেনি নিহত হন। এই হামলায় তার পরিবারের সদস্যসহ অন্তত ২০১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর ইরান এখন তাদের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানান, বর্তমানে একটি তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল সাময়িকভাবে দেশ পরিচালনা করছে। এই কাউন্সিলে রয়েছেন: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচারবিভাগের প্রধান, অভিভাবক পরিষদের একজন ফকিহ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থায়ী উত্তরসূরি বেছে নেবে। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ঠিক এই পদ্ধতিতেই খামেনি ক্ষমতায় এসেছিলেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে উত্তরাধিকার কাউন্সিলের কাজ শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘বিশাল অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করে দেশে সাত দিনের সরকারি ছুটি এবং ৪০ দিনের শোককাল ঘোষণা করেছেন।
আব্বাস আরাগচি এই হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের নজিরবিহীন লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এর ফলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক ও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন: “খামেনি কেবল ইরানের রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, বরং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় নেতা ছিলেন। ইরান কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য সফল হয়নি। অতীতেও দীর্ঘ যুদ্ধের পর প্রতিপক্ষকে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করতে হয়েছিল এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এই হামলাকে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করা হিসেবে বর্ণনা করে চরম প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ওমান, দুবাই ও দোহার মতো অঞ্চলে ইরানের পালটা হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান প্রতিবেশীদের লক্ষ্যবস্তু করতে চায় না। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে বরং হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার আহ্বান জানান।
খামেনির মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এখন সবার নজর তেহরানের দিকে- কে হচ্ছেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?
সূত্র: আল-জাজিরা।