বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

ক্ষেতলালে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন


জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষায় মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে তারা।

২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ 

ক্ষেতলালে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় সহকারী প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) উপজেলার বিনাই জসিম উদ্দিন মেমোরিয়াল বিদ্যানিকেতনে এ  ঘটনা ঘটে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি জরুরি নোটিশ প্রদান করেন প্রধান শিক্ষক। বুধবার সেই আদেশ অমান্য করে দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী জোবায়েদ ও জাহিদ শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন নিয়ে আসে। বিষয়টি নজরে এলে দায়িত্বরত একজন শিক্ষক তাদের ফোন দুটি জব্দ করে সহকারী প্রধান শিক্ষক মুনছুর রহমানের কাছে জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক মুনছুর রহমান ওই দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডেকে পাঠান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, খবর পেয়ে জাহিদের অভিভাবক এসে শিক্ষকদের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানালেও অন্য শিক্ষার্থী জোবায়েদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে জোবায়েদের বাবা জাকারিয়া ও তার চাচা বিদ্যালয়ে এসে ছেলের পক্ষ হয়ে চড়াও হন। তারা সহকারী প্রধান শিক্ষক মুনছুর রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং সবার সামনে দফায় দফায় লাঞ্ছিত করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম ও হিমেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের একটি ভবনের কাজ চলায় স্যার মাঠে আমাদের ক্লাস নিচ্ছিলেন। আমাদের সামনেই একজন সম্মানিত শিক্ষককে মারধরের মতো করে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। শিক্ষকদের এই অপমান আমরা মেনে নিতে পারি না। সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরব না।

ভুক্তভোগী সহকারী প্রধান শিক্ষক মুনছুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে আমাকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। এটি অত্যন্ত মানহানিকর।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর মজিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং পরিচালনা কমিটির সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।