ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে: ডিএনসিসি প্রশাসক
২ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত, সরকারি কাজে বাধা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। মামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করে ডিবি। বিমানবন্দর থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই মাজেদুল।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। এতে যাত্রীদের লাগেজ পেতে দেরি হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে পরিস্থিতি দেখতে সেখানে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী পরিচালক কথা বলার সময় আখতারুজ্জামান তার দিকে এগিয়ে গিয়ে গালাগাল করেন এবং হুমকি দেন। এ সময় তিনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তার সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার একপর্যায়ে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত বা কেপিআই এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে সেখানে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও ধারণে বাধা দেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া যাত্রীদের বহন করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দেওয়া এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলার বাদীর অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হওয়ার পর আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও অতীতে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তিনি আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে তাকে বহিষ্কারের তথ্যও রয়েছে। বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিমানবন্দরের ঘটনার বিষয়ে আখতারুজ্জামানের বক্তব্য বা তার পক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনের তথ্যের মধ্যে পাওয়া যায়নি।