শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ মেরামতে সরকারের থ্রি-আর কৌশল: প্রধানমন্ত্রী


দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে সরকার রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন- ‘থ্রি-আর’ কৌশল অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ 

বাংলাদেশ মেরামতে সরকারের থ্রি-আর কৌশল: প্রধানমন্ত্রী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে সরকার রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন- ‘থ্রি-আর’ কৌশল অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, গণতান্ত্রিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় অনুযায়ী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি সরকারের এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের অবসানের পর বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। তার ভাষণে গুম, খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের মতো বিষয়ও উঠে আসে।

সরকারের ‘রিকভারি’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে একটি ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ কাজে উন্নয়ন সহযোগীদেরও পাশে চেয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতে চলতি অর্থবছরে ৫ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন করা।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘রেস্টোরেশন’ পর্যায়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ‘রিকনস্ট্রাকশন’-এর আওতায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ নারী। তাই দেশের আর্থসামাজিক রূপান্তরে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নগদ অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর কথাও জানান তিনি। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, ফিলিস্তিন, বৈশ্বিক শান্তি, নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও তুলে ধরেন।