শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রামে অভিজাত এলাকায় বিদেশি অপরাধী চক্রের ৬৩ সদস্য গ্রেপ্তার


চট্টগ্রামের অভিজাত খুলশী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত একটি বিদেশি চক্রের ৬৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ ১৭০টি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে লাওসের ৩৫, পাকিস্তানের ২১, চীনের ৫ এবং নেপাল ও ভিয়েতনামের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ 

চট্টগ্রামে অভিজাত এলাকায় বিদেশি অপরাধী চক্রের ৬৩ সদস্য গ্রেপ্তার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের ৬৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা পুলিশ। পুলিশ বলছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনলাইন প্রতারণা, মাদক কারবার, এটিএম জালিয়াতি, অনলাইন ক্যাসিনো, স্বর্ণ চোরাচালান ও মানবপাচারের মতো অপরাধ করে আসছিল।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত খুলশীর জালালাবাদের কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি ভবনের অষ্টম তলায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন এবং নেপাল ও ভিয়েতনামের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে দামপাড়া পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন্স) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ডিজিটাল প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ডিভাইসের মধ্যে রয়েছে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, একটি কিবোর্ড, একটি মাউস ও একটি প্রিন্টার। এ ছাড়া পাঁচটি পেনড্রাইভ, চারটি সিমকার্ড, তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ড উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস আগে খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেটিকে প্রতারণামূলক কার্যক্রমের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। বাড়িটির মালিক দুবাইপ্রবাসী বলে জানা গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।

পুলিশের ভাষ্য, চক্রটির সদস্যরা স্ক্যামিংয়ের সঙ্গেও জড়িত। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ, ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণসহ নানা সুবিধা হাতিয়ে নেওয়া হতো।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চক্রটির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দেশীয় ও বিদেশি সহযোগীরাও যুক্ত থাকতে পারে। বাংলাদেশে তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

খুলশী এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত এক মাস ধরে ওই ভবনে বিদেশি নাগরিকদের আনাগোনা ছিল। তাদের কেউ কেউ নিজেদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরে সেখানে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন এবং ক্যাসিনোসদৃশ কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য স্থানীয়দের নজরে আসে।

সিএমপির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পরও কিছু বিদেশি নাগরিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। ডিজিটাল প্রতারণার পাশাপাশি মাদক, জাল ডলার, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, অনলাইন ক্যাসিনো ও মানবপাচারের মতো অপরাধেও বিভিন্ন বিদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে রয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে প্রবেশের পর নিজেদের পাসপোর্ট নষ্ট করে ফেলেন, যাতে প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়। এরপর রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের অভিজাত এলাকায় বাসা বা হোটেল ভাড়া নিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। এদিকে, গ্রেপ্তার চক্রটির মূলহোতাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইসসহ ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা ডিভাইসগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।