নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত ১৭৭ এবং নিখোঁজ ৪০০
৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনও ২ হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩৪টি লাশ ও মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর বন্যায় নেপালের বিভিন্ন জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে এখনও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে উদ্ধারকর্মী, সরকারি সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপালের সাম্প্রতিক এই দুর্যোগকে দেশটির অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এদিকে, নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও ৩২০ জন বিদেশি নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
উদ্ধার হওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভারতের ১৬৭ জন, চীনের ৪০ জন, ইউক্রেনের ৮ জন, জার্মানি ও মাল্টার চারজন করে, যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন রয়েছেন। এ ছাড়া ইতালি, রাশিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড ও তুরস্কের দুজন করে নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ওমান ও পর্তুগালের একজন করে নাগরিকও উদ্ধার হয়েছেন। পাশাপাশি ২১ জন বিদেশি নাগরিকের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে বন্যার ব্যাপকতা এবং দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে নানা বাধার কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।