আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৬-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন
২৬ আগস্ট ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা এবং বাঘাবাড়িসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঘি ও বাটার অয়েল মিলিয়ে ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
পাশাপাশি এসব পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআইয়ের দেওয়া লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।
সম্প্রতি নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে বিএসটিআইয়ের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলার মান নির্ধারিত মানদণ্ডের তুলনায় নিম্নমানের পাওয়া যায়।
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে ‘ঘি’র অন্যতম প্রধান উপাদান মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে পণ্যটি ঘি নামে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। অন্যদিকে বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত বিভিন্ন মসলা বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নির্ধারিত কয়েকটি প্যারামিটারে অকৃতকার্য হয়েছে।
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বম্বে সুইটসের কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং-১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং-১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং-২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ) মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি থাকায় অকৃতকার্য হয়েছে।
বাংলাদেশ মানের তুলনায় নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি। পণ্যটির উৎপাদনের তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ৩০ জুলাই ২০২৮। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।
এসব ঘি ও বাটার অয়েলের ক্ষেত্রে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালুসহ বিভিন্ন প্যারামিটার নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
বিএসটিআই মহাপরিচালক পণ্য কেনার আগে ক্রেতাদের বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা কিংবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ জন্য বিএসটিআইয়ের হটলাইন ১৬১১৯ নম্বরে কল অথবা dg@bsti.gov.bd ঠিকানায় ই-মেইল করা যাবে।