মিরাজের সেঞ্চুরির পরও ৫৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ
১০ আগস্ট ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
সংসারের ছোটখাটো জরুরি খরচ মেটাতে ডিজিটাল ঋণ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ ব্যবস্থায় মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণ নেওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে গ্রাহকের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এ ঋণের ওপর কোনো সুদ আরোপ করা হবে না। ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হারে সেবামূল্য নেওয়ার সুযোগ থাকবে ব্যাংকগুলোর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন খসড়া ডিজিটাল ঋণ নীতিমালায় এ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছে। মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।
খসড়া কাঠামো অনুযায়ী, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ৫ টাকা সেবামূল্য নেওয়া যাবে। ২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঋণে ১০ টাকা, ৫০১ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ১৫ টাকা এবং ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা সেবামূল্য নেওয়া যাবে। এ ছাড়া ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা এবং ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা সেবামূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বাইরে কোনো সুদ বা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
নতুন এ ব্যবস্থায় ঋণ নিতে গ্রাহককে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কাগজে স্বাক্ষরের পরিবর্তে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই ও ডিজিটাল সম্মতি নেওয়া হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ডিজিটাল মাধ্যমেই ঋণের আবেদন, অনুমোদন, অর্থ ছাড় এবং পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এ ধরনের ক্ষুদ্র ও স্বল্পমেয়াদি ঋণব্যবস্থা দেশের নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। এটি বড় অঙ্কের ভোগ্যঋণ নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের ছোট ও তাৎক্ষণিক আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য চালু করা হবে। এর ফলে প্রচলিত ব্যাংকিং ঋণ নেওয়ার সুযোগ না থাকা কিংবা ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা অনেক মানুষও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।তবে প্রস্তাবিত সুবিধাটি এখনই চালু হচ্ছে না। বর্তমানে খসড়া নীতিমালা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। মতামত পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।
চূড়ান্ত নীতিমালায় ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা, গ্রাহকের সীমা, পরিশোধ পদ্ধতি, তথ্য সংরক্ষণ, গ্রাহক সুরক্ষা এবং ঋণ খেলাপি হলে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয় আরও স্পষ্ট করা হতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে, দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো জরুরি খরচ মেটাতে সুদবিহীন ক্ষুদ্র ডিজিটাল ঋণ গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক সেবা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।