শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

মিরাজের সেঞ্চুরির পরও ৫৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ


ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের অপরাজিত ১০৯ রানের সেঞ্চুরিতে ২৬৩ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। ক্যামবেল থম্পসনের ৮ উইকেটের তোপে ২১.৬ ওভারে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৩৮ রানে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ।

৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ 

মিরাজের সেঞ্চুরির পরও ৫৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরির পরও শেষ ইনিংসে ব্যাটিং ধস সামলাতে পারেনি টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৬৩ রানের জবাবে ৩৫৫ রান করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। ফলে প্রথম ইনিংসেই ৯২ রানের লিড পায় তারা। ম্যাচ বাঁচাতে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ গড়তে হতো। কিন্তু শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ২১.৬ ওভারে ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠেন ক্যামবেল থম্পসন। মাত্র ১১ ওভার বল করে ২৫ রান দিয়ে ৮ উইকেট নেন তিনি। তাঁর বোলিং ফিগার ছিল ১১-২-২৫-৮। বাংলাদেশের পতন হওয়া ১০ উইকেটের আটটিই এসেছে তাঁর হাত ধরে।

ইনিংসের শুরুতেই সাদমান ইসলামকে ৬ রানে ফেরান থম্পসন। এরপর মুমিনুল হকও ৬ রান করে তাঁর শিকার হন। নাজমুল হোসেন শান্ত কোনো রান না করেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। সৌম্য সরকার ৫ ও মুশফিকুর রহিম ২ রান করে আউট হন দুজনকেই ফেরান থম্পসন।

মাত্র ৩৬ রানেই চার উইকেট হারানোর পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন তানজিদ হাসান তামিম। ৪১ বলে ২২ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। তবে ১৫.৫ ওভারে থম্পসনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তানজিদ। এর পরের বলেই আমিত হাসান ৪ রান করে কোরি রকিচোলির বলে ক্যাচ দেন। ৪৫ রানে ছয় উইকেট হারানো বাংলাদেশের শেষ প্রতিরোধও দ্রুত ভেঙে পড়ে। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৯ বলে মাত্র ৬ রান করে রকিচোলির বলে ডোরানের হাতে ক্যাচ দেন।

শেষ দিকে হাসান মাহমুদ ২ রানে অপরাজিত থাকলেও তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার মতো আর কেউ ছিলেন না। থম্পসন শেষ দুটি উইকেট তুলে নেন-তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন দুজনেই শূন্য রানে ফেরেন। ফলে ৫৪ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে থম্পসনের ৮ উইকেটের পাশাপাশি রকিচোলি নেন ২ উইকেট। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো ব্যাটারই ২৫ রান করতে পারেননি। তানজিদের ২২ রানই ছিল সর্বোচ্চ।

এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে একাই লড়াই করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ১৪১ বলে ১০৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও চারটি ছক্কা।

বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সাদমান ইসলাম করেন ৩১ রান। সৌম্য সরকার ১৬, মুমিনুল হক ১৬, আমিত হাসান ১৫ এবং খালেদ আহমেদ ১৫ রান করেন। তবে মিরাজ ছাড়া বড় কোনো জুটি বা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন কোরি রকিচোলি। ২৪ ওভার বল করে ৮৩ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন তিনি। জেরসিস ওয়াদিয়া একটি এবং হ্যানো জ্যাকবস, ক্যামবেল থম্পসন ও জেভিয়ার ক্রোন একটি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশের ২৬৩ রানের জবাবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের ইনিংসের মূল কারিগর ছিলেন টিগ উইলি। ১৭৭ বলে ১৩০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ১৬টি চারে সাজানো তাঁর ইনিংস দলটির বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।

উইলির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন জেক ডোরান। ১০২ বলে ৭৬ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল ১০টি চার। এ ছাড়া কার্টিস প্যাটারসন ৯১ বলে ৫৩ এবং জ্যাক ক্লেটন ৫৮ বলে ৪৮ রান করেন। জশ ফিলিপ্পে করেন ২৪ রান। শুরুতে দ্রুত দুই উইকেট হারালেও পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩৫৫ রান করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ।

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন হাসান মাহমুদ। ১৯ ওভারে মাত্র ৪২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। তাসকিন আহমেদ ২টি, মেহেদী হাসান মিরাজ ২টি এবং খালেদ আহমেদ ও ইবাদত হোসেন একটি করে উইকেট নেন। তবে ৯২ রানের লিড নেওয়ার পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ভয়াবহ ব্যাটিং ধসেই ম্যাচের ফল একেবারে একপেশে হয়ে যায়। মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার প্রয়োজনই পড়েনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের।

শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৩৮ রানের জয় নিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ শেষ করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। বাংলাদেশের হয়ে মিরাজের ১০৯ রানের সেঞ্চুরি ছিল ম্যাচের উজ্জ্বল ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স। তবে তাঁর সেই লড়াইকে সঙ্গ দিতে পারেনি দলের অন্য ব্যাটাররা। বিপরীতে ব্যাট হাতে টিগ উইলির ১৩০ এবং বল হাতে ক্যামবেল থম্পসনের ৮ উইকেট ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি অস্ট্রেলিয়া একাদশের হাতে তুলে দেয়।