‘মুখ ও মুখোশ’-এর ৭০ বছর: যে চলচ্চিত্রের হাত ধরে শুরু হয়েছিল ঢাকাই সিনেমার যাত্রা
৫ আগস্ট ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রতিটি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের গণভবন প্রাঙ্গণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন শেষে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি অপরাধের বিচার অত্যন্ত জরুরি। বিগত ১৭ বছর এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে তাদের নামে নিজ নিজ এলাকায় অন্তত একটি করে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বয়ান প্রচারের স্থান নয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত নায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ। তার ভাষায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই ছিল, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন।
দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন কোনো পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, যা পতিত স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু প্রাণ হারিয়েছেন। আন্দোলন দমাতে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল, যা সভ্য বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসও সেখানে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। অসম্পূর্ণ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ইতিহাস নয়, বরং সত্যনির্ভর তথ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করা উচিত। পাশাপাশি বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরের তথ্য বাংলা ছাড়াও অন্যান্য ভাষায় উপস্থাপনের পরামর্শ দেন।
জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, আহত যোদ্ধাদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ৫০ জন বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।
বক্তব্যের শেষে গণঅভ্যুত্থানে জনগণের পাশে দাঁড়ানো সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।
সূত্র: বাসস