শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়ে বিএসটিআইয়ের নতুন বার্তা


দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির দাবিতে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বলেছে, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বিষয়টি স্বাধীন পরীক্ষাগারে যাচাই করে প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩১ জুলাই ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ 

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়ে বিএসটিআইয়ের নতুন বার্তা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার পর সৃষ্ট উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) জানিয়েছে, এ বিষয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। স্বাধীন পরীক্ষাগারে বৈজ্ঞানিকভাবে নমুনা পরীক্ষা করে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই এ তথ্য জানায়। টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অভিযোগ নিয়ে এটি সংস্থাটির দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি। বিএসটিআই জানায়, সম্প্রতি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর এক গবেষণায় দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিএসটিআই বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং স্বতন্ত্র পরীক্ষাগারে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, পরীক্ষায় কোনো টুথপেস্টে মাইক্রোবিড বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো প্লাস্টিক বা অন্যান্য অজৈব পদার্থের অতি ক্ষুদ্র কণা, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদীয়মান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিএসটিআই জানায়, দেশে প্রচলিত বিডিএস ১২১৬:২০১২ (Specification for Toothpaste) অনুযায়ী টুথপেস্টে ক্ষতিকর উপাদান, জীবাণু ও বিষাক্ততার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।

এর আগে ২৮ জুলাই প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানিয়েছিল, ইএসডিওর গবেষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, পরীক্ষাপদ্ধতি ও কাঁচা তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছ থেকে কাঁচামাল, পণ্যের উপাদান এবং সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজার ও উৎপাদন কারখানা থেকে নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি ও বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনঃপরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছিল, দেশে টুথপেস্ট তৈরির জন্য অনুমোদিত ৮১টি উপাদানের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো উল্লেখ নেই। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে এটি ব্যবহারের সুযোগ নেই বলেই তাদের ধারণা। এছাড়া কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা পণ্যকে অনিরাপদ বা নিম্নমানের বলা সমীচীন নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে গত ২৬ জুলাই প্রকাশিত ইএসডিওর গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই)’ ল্যাবরেটরিতে ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি (এফটিআইআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত পরীক্ষায় ২৬টি নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের পাঁচটির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের দুইটির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুইটির দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্য বাজারজাত ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও এ ধরনের কণা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে ইএসডিও স্পষ্ট করেছে, গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা নয়। বরং টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক বিষয়ে জাতীয় মানদণ্ড, গ্রহণযোগ্য সীমা, পরীক্ষার নির্দেশিকা এবং লেবেলে তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরাই ছিল গবেষণার মূল লক্ষ্য।

এদিকে ভোক্তাদের টুথপেস্ট কেনার সময় উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স নম্বর যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি অজানা বা অনুমোদনহীন ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, টুথপেস্ট না গেলা, নিয়মিত মুখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং গুজব বা অযথা আতঙ্কে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএসটিআই। এছাড়া জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমদানিকৃত টুথপেস্টের আমদানি ও বাজারজাতকরণেও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।