শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনায় নিরস্ত্রীকরণে রাজি হামাস


গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনার আওতায় নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে হামাস। বিবিসির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরায়েল।

৩১ জুলাই ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ 

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনায় নিরস্ত্রীকরণে রাজি হামাস
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

গাজায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনার আওতায় নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিবিসি। তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি এমন একটি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা ইসরায়েল নীতিগতভাবে আগেই গ্রহণ করেছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত গাজা থেকে স্থায়ীভাবে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো আগ্রহ দেখাননি। এছাড়া তার ডানপন্থী জোটের শরিকদের বিরোধিতাও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চুক্তির শর্ত ইসরায়েল মেনে চলবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘বোর্ড অব পিস’-এর এক কর্মকর্তা বলেন, তারা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে ইসরায়েল চুক্তির শর্ত মেনে চলবে। তবে তা না হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গভীরভাবে হতাশ হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মাধ্যমে বিবিসির স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই এই ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। যদিও তারা সতর্ক করে বলেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং প্রতিটি ধাপ হবে শর্তসাপেক্ষ, স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত ও ‘জিরো ট্রাস্ট’ নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত। অর্থাৎ, এক পক্ষ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত অন্য পক্ষ পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হবে না।

পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতির অভিজ্ঞতার কারণে এই প্রক্রিয়া যেকোনো পর্যায়ে স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না পর্যবেক্ষকরা। গত বছরের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির ফলে প্রথমদিকে কয়েকজন ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তি পান এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ শুরু হয়। তবে পরবর্তীতে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে পুনরায় সংঘাত শুরু হয়, ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পরিকল্পনা শুধু হামাসের অস্ত্র সমর্পণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় হামাসের সামরিক অবকাঠামো-সুড়ঙ্গ, ভারী অস্ত্র, অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং অস্ত্রের গুদামও ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করা হবে। এরপর দীর্ঘমেয়াদি ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হামাসের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই লক্ষ্য দ্রুত অর্জন সম্ভব নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে সমন্বিত ও পর্যায়ক্রমিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।