কাফরুলে গুলি: অপপ্রচারের অভিযোগ, আব্বাস আলীর সুনাম ক্ষুণ্নের চেষ্টা
২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
আমাদের শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা এবং হাড়ের মজবুতির জন্য 'ভিটামিন ডি' অত্যন্ত অপরিহার্য। একে সাধারণত "সানশাইন ভিটামিন" বলা হয়ে থাকে, কারণ এটি পাওয়ার সবচেয়ে বড় ও সেরা প্রাকৃতিক উৎস হলো সূর্যালোক। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত সুষম খাবার খাওয়া সত্ত্বেও কেবল সূর্যের আলোর অভাবে অধিকাংশ মানুষই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভুগছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ডি-এর চাহিদা পূরণের জন্য খুব দীর্ঘ সময় রোদে থাকার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট রোদে থাকাই শরীরের ভিটামিন ডি-এর চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট। হাত, মুখমণ্ডল, পা বা পিঠের কিছুটা অংশ সরাসরি উন্মুক্ত রেখে রোদে দাঁড়ানো উচিত। যাদের গায়ের রঙ তুলনামূলক ফর্সা, তাদের শরীরে ভিটামিন ডি দ্রুত তৈরি হয় (১০-১৫ মিনিট যথেষ্ট)। তবে যাদের গায়ের রঙ একটু চাপা বা শ্যামলা, তাদের ত্বকে থাকা মেলানিনের কারণে মেলানোসাইট ধীরগতিতে কাজ করে। ফলে তাদের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা এই সময়টিতে সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট-বি (UVB) রশ্মি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, যা ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে। তীব্র দুপুরের রোদে অতিরিক্ত সময় দাঁড়িয়ে থাকা উচিত নয়, এতে ত্বক পুড়ে যাওয়া (Sunburn) বা ত্বকের ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। সকালের দিকে নরম রোদে কিছুটা সময় কাটানোই সবচেয়ে নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, রোদে থাকার সময় মুখ, হাত, বাহু বা পায়ের কিছু অংশ খোলা থাকলে শরীর সহজে ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় তীব্র রোদে অবস্থান করলে ত্বক পুড়ে যাওয়া, অকাল বার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত রোদে থাকা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শুধু সূর্যের আলো নয়, চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ, ডিমের কুসুম, ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ দুধ ও বিভিন্ন ফোর্টিফায়েড খাবার থেকেও এই ভিটামিন পাওয়া যায়। যাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি বেশি, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ক্লান্তি, হাড়ে ব্যথা, পেশি দুর্বলতা বা ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা নিরাপদ।