কাফরুলে গুলি: অপপ্রচারের অভিযোগ, আব্বাস আলীর সুনাম ক্ষুণ্নের চেষ্টা
২৭ জুলাই ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার থাকা ১০ আসামি ছাড়া পলাতক ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল অভিযোগের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৬ আগস্ট।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। অভিযোগপত্রে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
বর্তমানে এ মামলায় ১০ জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু এবং অপর একজন আসামি, যিনি আদালতের নথি অনুযায়ী গ্রেপ্তার রয়েছেন।
অন্যদিকে পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ আরও অনেকে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের দাবি, হেফাজতে ইসলামের ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের চারটি স্থানে মোট ৬১ জন নিহত হন। তদন্তে এ পর্যন্ত ৫৮ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হয়েছেন বলে তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, খসড়া প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ কয়েকজনের নাম এসেছে। যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।