সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২৫ হাজারের বেশি হজযাত্রী, মৃত্যু ২
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে প্রথমবারের মতো টোল আদায় শুরু করেছে ইরান। পণ্য পরিবহনের ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি পার্লামেন্টের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানায়।
ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই জানিয়েছেন, প্রণালিতে আরোপিত টোল থেকে প্রাপ্ত প্রথম রাজস্ব ইতোমধ্যে সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে। তবে কোন দেশ বা কোম্পানি এই অর্থ পরিশোধ করেছে কিংবা মোট কত টাকা আদায় হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। অন্যদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের এই দাবির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই রুটে জাহাজ চলাচলের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জাহাজকে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এই প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও এটি একটি প্রধান রুট। ফলে এই পথ সীমিত হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে।
এর আগে, গত ৩০ মার্চ ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিশন টোল আরোপের পরিকল্পনা অনুমোদন করে। দেশটির নীতিনির্ধারকরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই জলপথ আর আগের মতো উন্মুক্ত থাকবে না। টোল আরোপের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল, যার প্রথম বাস্তব প্রয়োগ দেখা গেল এবার। তবে চূড়ান্ত সংসদীয় অনুমোদন ও আইনি কাঠামো নিয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে, ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছে পশ্চিমা বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালি সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ৩০টির বেশি দেশের সামরিক নীতিনির্ধারকরা এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক বৈঠক করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, টোল আদায়ের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।