মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারের ইশতেহার ব্যর্থ হবে: ডিসিসিআই সভাপতি


দেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণভাবে বন্ধে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চাঁদাবাজি ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারের সব আশা ও ইশতেহার বিফলে যাবে।

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ 

চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারের ইশতেহার ব্যর্থ হবে: ডিসিসিআই সভাপতি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি তাসকিন আহমেদ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে চারটি অগ্রাধিকার বিষয় তুলে ধরেন।

এর মধ্যে প্রথম এবং প্রধান দাবি হিসেবে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কার্যকর উন্নয়ন এবং চাঁদাবাজি নির্মূলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যেন নিরাপদ ও নির্ভার পরিবেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

তাসকিন আহমেদ অভিযোগ করেন, বর্তমানে ব্যবসায়ীদের ফ্যাক্টরি থেকে পণ্য বের করতে বা ঢোকাতে গেলেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। নদীপথে ছোট নৌকা নিয়ে চলাচলের সময়ও কোথাও কোথাও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। কারা এভাবে চাঁদা তুলছে, তা খুঁজে বের করে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান তিনি।

চাঁদাবাজির ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদক পর্যায়ে যে সবজি ২ টাকায় বিক্রি হয়, চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে বাজারে সাধারণ মানুষকে তা ৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে ব্যবসার খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি চূড়ান্তভাবে ভোক্তাদের ওপরই বাড়তি চাপ পড়ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজি কেবল সড়ক বা ঘাটে সীমাবদ্ধ নয়; ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর ও ভ্যাট অফিসসহ সরকারি সেবাখাতের বিভিন্ন স্তরেও অনিয়ম ঢুকে পড়েছে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তিনি সরকারকে আশ্বস্ত করে বলেন, ঢাকা চেম্বার সব সময় সত্যের পথে কথা বলে। ব্যবসায়িক ব্যয় কমাতে হলে ট্রাক ও রাস্তাঘাটের চাঁদাবাজি বন্ধ করা জরুরি।

চাঁদাবাজি রোধে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে তিনি দেশের প্রায় ২৬ লাখ বেকার যুবককে ক্ষুদ্র শিল্প ও স্টার্টআপ ব্যবসায় যুক্ত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রস্তাব দেন। বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করা ছাড়া কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া, যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণ খেলাপি হয়েছেন, তাদের পুনরায় ব্যবসায় ফিরিয়ে আনতে চলতি মূলধন সহায়তা দেওয়া এবং ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানান ডিসিসিআই সভাপতি।

সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসার খরচ কমানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।