মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

নির্বাচনে বিদেশী পর্যবেক্ষক তাদের মতো কাজ করবে, সরকার কোনো ধরনের প্রভাবিত করবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যবেক্ষক আহ্বান করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিক ইনস্টিটিউট পর্যবেক্ষক পাঠাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে সরকার কোনোভাবেই প্রভাব বিস্তার করবে না, কেবল তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:১৫ অপরাহ্ণ 

নির্বাচনে বিদেশী পর্যবেক্ষক তাদের মতো কাজ করবে, সরকার কোনো ধরনের প্রভাবিত করবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, নির্বাচনে আমরা সারা পৃথিবী থেকে পর্যবেক্ষকদের আহবান করেছি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আমেরিকার রিপাবলিক ইনস্টিটিউট পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং নেতৃত্বে যারা আসবে তাদের সাথে আমার দেখা ও কথা হয়েছে। আমরা বলেছি এ বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা নেবো। সাথে আরো একটি কথা বলেছি, 'সরকার আপনাদেরকে কোনো সাহায্য করতেও যাবে না; যতক্ষণ আপনারা না চাইবেন'। কারন সরকার যদি তাদের ব্যাপারে এগোয় তাহলে মনে করা হবে আমরা তাদেরকে প্রভাবিত করছি। আমরা সেটা এক বিন্দুও করবো না।

আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা শুধু দেখবো পর্যবেক্ষকদের যাতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। এরপর তারা যদি কোনো সহায়তা চায় তাহলে তাদেরকে সে সহায়তা দেওয়া হবে। যারা পর্যবেক্ষক আসবেন তাদের বিষয়ে সরকারের এটিই হচ্ছে রুল। এছাড়াও কারা পর্যবেক্ষক হবেন সেটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব হলো নির্বাচন কমিশনের। সরকারের এখানে কোনো ভূমিকা নেই। তারা সেখানে আবেদন করছেন নির্বাচন কমিশন যাদেরকে নিরপেক্ষ মনে করেন তাদেরকেই পর্যবেক্ষক হিসেবে অনুমোদন দিবেন এবং তারাই আসবেন পর্যবেক্ষক হিসেবে। আমরা চাই বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক থাকুক যাতে করে নির্বাচনে কেউ গন্ডগোল করার সুযোগ না পায়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মানুষ মুখিয়ে আছে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য। কারন তারা দীর্ঘদিন ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে। আমরা সবাই চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। আমি আশা করি আগামী দিনগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রাচারণা হবে। আমি রাজনৈতিক দলগুলোকে আহবান করবো আপনারা মানুষের কাছে যান। তারা মানুষের কাছে গিয়ে তাদের বক্তব্য দিবে, কেউ কাউকে আঘাত করার চেষ্টা করার প্রয়োজন নেই। মানুষ সিদ্ধান্ত নিবে। দলগুলো যাতে কোনো ধরনের ঝামেলায় না গিয়ে পরস্পর পরস্পরের সহযোগিতা করে আমরা এটাই প্রত্যাশা করি। সর্বশেষ শান্তিপূর্ণভাবে একটা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে আমরা এখান থেকে সরে যাবো। দেশ আবার নতুনভাবে একটা স্বাভাবিক পদ্ধতিতে চলবে।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদিল্লাহ কাওছার। অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।