শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

পোশাক নয়, মানসিকতার পরিবর্তনেই গড়বে সুশৃঙ্খল সমাজ: পাথওয়ে নির্বাহী পরিচালক মোঃ শাহিন


১৭ নভেম্বর ২০২৫, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ 

পোশাক নয়, মানসিকতার পরিবর্তনেই গড়বে সুশৃঙ্খল সমাজ: পাথওয়ে নির্বাহী পরিচালক মোঃ শাহিন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে শুধু পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করলেই সমাজ বদলে যাবে না, বরং পরিবর্তন আসতে হবে মানুষের মন-মানসিকতায়—এমন মন্তব্য করেছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পাথওয়ের নির্বাহী পরিচালক মোঃ শাহিন।

তিনি বলেন, “আমরা নিজেরা ভালো থাকার জন্য কখনও পরিবার, কখনও সমাজকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছি। সমাজের বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে আমাদের মানসিকতার কারণে।”

রাজনীতিবিদদের ভূমিকা ও প্রভাব

মোঃ শাহিন রাজনীতিবিদদের ভূমিকার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,

“রাজনীতিবিদদের কারণেই সমাজে আইন-শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়। অনেক সময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে নিজেরাও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেন।”

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মামলার সত্যতার যাচাই না করেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়।

“বাদী যা বলেন, যে স্টেটমেন্ট দেন—পুলিশ ঠিক সেই অনুযায়ী মামলা নিয়ে নেয়। অধিকতর তদন্ত হয় না। যাদের ব্যক্তিগত শত্রুতা আছে, অনেক সময় তাদের সাথেও নাম মিশিয়ে মামলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।”

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও অতীত অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন,

“আওয়ামী সরকার আমলেও আমরা দেখেছি খালি পেপসির বোতল দিয়ে ককটেল মামলা দেওয়া হয়েছে, আবার অনেককে হেরোইনের মতো মামলাতেও জড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জঙ্গি ট্যাগ লাগিয়ে আলেম-উলামা, এমনকি মা-বোনদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি।রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত  অসংখ্য মামলাও দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,

“অনেক রাজনীতিবিদকে ৫০০ থেকে ৬০০টি মামলার আসামি করা হয়েছে—সে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট থাকুক বা না থাকুক। কমিটি ধরে ধরে মামলা দেওয়ার নজিরও রয়েছে।”

নিরপেক্ষ তদন্ত ও শৃঙ্খলা বাহিনীর স্বাধীনতা জরুরি

মোঃ শাহিন মনে করেন, এসব সমস্যার সমাধান করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হতে হবে।

তিনি বলেন, “ডিসি, পুলিশ সুপার বা ওসি যদি দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে তাদের এলাকায় কোন দুর্নীতি চলবে না—তবে কারও পক্ষেই দুর্নীতি করা সম্ভব হবে না।”

তিনি জুডিশিয়াল তদন্তের ওপর জোর দিয়ে বলেন,

“মামলার ক্ষেত্রে অধিকতর তদন্ত ছাড়া মামলা নেওয়া উচিত নয়। অনেক মিথ্যা মামলার কারণে নির্দোষ মানুষ ভোগান্তি পায়। মিথ্যা মামলার বাদীকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে, আর কোনো কর্মকর্তা যদি প্রমাণ ছাড়া মামলা নেন তাকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”

ট্রাফিক পুলিশের সাম্প্রতিক আচরণ নিয়ে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একজন ট্রাফিক পুলিশকে দেখেছি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির পায়ে হাত দিয়ে সালাম করছেন। এই তোষণ সংস্কৃতি প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

শেষ কথা

নিজ বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “পোশাক নয়—পরিবর্তন হওয়া উচিত আমাদের মন-মানসিকতা। তাহলেই দুর্নীতি কমবে, আইন-শৃঙ্খলা শক্তিশালী হবে এবং আমরা গড়তে পারব সোনার বাংলা।”