শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

তারেক রহমানের চেয়ে নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় বেশি


নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের তুলনায় বেশি। তবে মোট সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমান।

১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ 

তারেক রহমানের চেয়ে নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় বেশি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামায় রাজনৈতিক নেতাদের আয়-ব্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের চেয়ে বেশি ।

হলফনামা অনুযায়ী, নাহিদ ইসলাম শিক্ষকতা ও পরামর্শক পেশা থেকে বছরে ১৬ লাখ টাকা আয় করেন। গত বছর তার বার্ষিক আয় ছিল ১৩ লাখ ৫ হাজার ১৫৮ টাকা। বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা। তার নিজের কাছে নগদ রয়েছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর কাছে নগদ রয়েছে ২ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ৫৭ পয়সা।
এ ছাড়া তার নিজের অর্জনকালীন প্রায় ৮ লাখ টাকা মূল্যের অলংকার এবং স্ত্রীর অর্জনকালীন ১০ লাখ টাকা মূল্যের গহনা রয়েছে। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। তবে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা। শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে ৫ লাখ টাকা, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ৪৫ লাখ টাকার এবং কোম্পানি নামে দেখানো হয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া সঞ্চয়ী আমানত রয়েছে ২০ হাজার টাকা, এফডিআর রয়েছে ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকা এবং অন্যান্য আমানত রয়েছে ১ লাখ টাকা। গহনার মূল্য দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা। তার নামে ২ দশমিক ০১ একর ১ দশমিক ৪ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এছাড়া ২ দশমিক ৯ শতাংশ জমির ওপর একটি ভবন রয়েছে, যা উপহার হিসেবে পাওয়ায় এর মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হলফনামা অনুযায়ী, তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কৃষিখাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকা বলে উল্লেখ রয়েছে। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৪ টাকা। তার নামে ১১ দশমিক ৭৭ শতক জমির ওপর একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২৭ লাখ টাকা। এছাড়া তার মালিকানায় ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। ঋণপত্র এবং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে তার বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকা। তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেননি বলেও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তার নামে ২ একর ১৭ শতক কৃষিজমি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া এসব হলফনামা অনুযায়ী, বার্ষিক আয়ের দিক থেকে নাহিদ ইসলাম এগিয়ে থাকলেও মোট সম্পদের পরিমাণে শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।